সীমান্তে বিএসএফের অস্ত্র ‘ছিনতাই’, ৮ ঘণ্টা পর আমদানি-রফতানি শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ০৬:৩৬ পিএম, ১০ মে ২০২২ মঙ্গলবার
সাতক্ষীরায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মে) সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টা সব ধরণের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকে। দুপুরের পর শুরু হয় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম।
তবে বিএসএফের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে বাংলাদেশের ওই এলাকার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। এছাড়া বিএসএফও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে যাতায়াতের সময় বিএসএফের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় কিছু চোরাকারবারী।
এর আগে মঙ্গলবার (১০ মে) ভোররাতে বিএসএফের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সব ধরনের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বিএসএসফ।
বিএসএফ দাবি করছে, তাদের একটি অস্ত্র হারিয়ে গেছে। অস্ত্র উদ্ধারে বাংলাদেশ সীমান্তের বিজিবির সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
তবে বিজিবির দাবি, ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও বাংলাদেশি ট্রাক ড্রাইভারের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়
দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম দুপুর ১টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
এ বিষয়ে ভোমরা স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার আমির আল মামুন জানান, সকাল থেকেই সব ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বেলা ১টা থেকে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিএসএফ ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ভারতীয় ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তের গেট বন্ধ করে দেওয়ায় সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারেনি। তারা জানিয়েছেন, তাদের অস্ত্র হারিয়ে গেছে। সেটি উদ্ধারের জন্য বেলা ১টা পর্যন্ত তারা সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন।
তিনি বলেন, ভারতীয় পাড়ে এখনও বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে। প্রতিদিন ভোমরা বন্দরে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। যদি আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক না হতো, তাহলে দৈনিক আড়াই কোটি টাকার রাজস্ব হারাতো সরকার।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল আল মাহমুদ জানান, বিএসএফ দাবি করেছে, তাদের এক নারী ফোর্সের একটি অস্ত্র হারিয়ে গেছে। এ ধরনের একটা তথ্য আমাদের দিয়েছে। বর্তমানে বিএসএফ ওদের বর্ডারে সার্চ অপারেশন চালাচ্ছে। আমাদের এখানেও অপারেশন চালানোর অনুরোধ করেছে। কিছু লোক বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়েছে এমন তথ্য তাদের কাছে থাকতে পারে। তবে আমাদের কাছে সে তথ্য দেয়নি।
আমাদের সীমান্ত এলাকায় আমরা অস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অস্ত্রটা যে বাংলাদেশের লোক নিয়েছে এটার কোনো তথ্য প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় এক ট্রাক ড্রাইভার ও বাংলাদেশি এক ট্রাক ড্রাইভারের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে (গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে) উভয় দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম দুপুর ১টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার পর আবারও তা স্বাভাবিক হয়েছে।
