বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৩ ১৪৩২   ১৭ শা'বান ১৪৪৭

শেখ হাসিনার বিশ্বভাবনা ও বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্মিত জাতিসংঘ

নিউইয়র্ক থেকে সাজেদা পারভীন

প্রকাশিত : ১১:২৬ এএম, ২ অক্টোবর ২০২১ শনিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা আর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের গুরুত্ব একই সাথে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। শান্তি, উন্নয়নের পথ সুগম করতে আর বৈষম্য দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ও বৈশ্বিক সমস্যা তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন বলে বিশ্বনেতারা মনে করেন ।

শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণের মাধ্যমে জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর এই ভাষণ বিশ্বভাবনারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। আর এতে বিস্মিত হয়েছে জাতিসংঘই।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সুদৃঢ় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। উন্নয়নশীল থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং জিডিপি গ্রোথে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ কারণে উন্নত ও দাতা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। এবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে। খোদ নেদারল্যান্ডসের রাণি ম্যার্মি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর হোটেল কক্ষে সাক্ষাত করেছেন। এসময় রাণী বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং নেতৃত্বদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রেখেছেন। শুধু নিজের দেশ বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের বড় বড় সমস্যা চিহ্নিত করে তিনি তা সমাধানের পথ খুঁজতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সুদৃঢ় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। উন্নয়নশীল থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং জিডিপি গ্রোথে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। এ কারণে উন্নত ও দাতা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। এবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে। খোদ নেদারল্যান্ডসের রাণি ম্যা´িম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর হোটেল কক্ষে সাক্ষাত করেছেন। এসময় রাণী বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং নেতৃত্বদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর যত অর্জন তারমধ্যে অন্যতম এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার। এছাড়া জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উত্তর লনে হানি লুকাস্ট বৃক্ষরোপণ এবং ‘বঙ্গবন্ধু বেঞ্চ’ স্থাপনও তাৎপর্যপূর্ণ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি রোহিঙ্গাদের টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগুলো দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারসহ করোনামুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে মেধাস্বত্ত্ব ছাড়সহ সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ৩০ মিনিট স্থায়ী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট ছয়দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এটি বাংলা ভাষায় দেয়া তাঁর ১৭তম ভাষণ। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর ১৭তম ভাষণে অগ্রাধিকার পাওয়া অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে আরো রয়েছে টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অসমতা দূরীকরণ।

শেখ হাসিনা তাঁর বাবা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগের বছরগুলোর মতই বাংলা ভাষায় তাঁর ভাষণ দেন।