শনিবার   ০৩ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ১৯ ১৪৩২   ১৪ রজব ১৪৪৭

পটুয়াখালীতে প্লাষ্টিকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ছে মৃৎশিল্প

শহিদুল আলম,পটুয়াখালী:

প্রকাশিত : ০৭:১৭ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার

প্লাষ্টিকের ধাক্কায় ছিটকে পরছে পটুয়াখালীর মৃৎশিল্প। স্থাণীয় চাহিদা মিটিয়ে যে পন্যগুলো রপ্তানী হতো দেশের বাইরে। তা এখন ধ্বংসের পথে। পৃষ্ঠপোষকতা,অর্থ সংকট আর নানা দৈন্যতায় হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহি এ  শিল্পটি । ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন কারিগররা। দীর্ঘ মেয়াদী সুদমুক্ত ঋন আর সহজলভ্য কাঁচা মাল পেলে আবারো ফিরে পাবে শিল্পটির সেই হারানো গৌরব। এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা। 


সাগর কন্যা পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে বাউফল উপজেলা। সেখানে মদনপুরা ইউনিয়নের পাল পাঁড়া গ্রাম। যেখানে ছিলো শতাধিক মৃৎশিল্প পরিবার। যেখানে তৈরী হত মাটির বিভিন্ন পন্য। দিন-রাত সমান তালে কাজ করতো হাজারো কারিগর। যা রপ্তানী হতো বিদেশে। সেই পালপাড়া গ্রামটির অনেক পরিবার এখন বেকার। সময়ের ব্যাবধানে বাহারি ডিজাইনের প্লাষ্টিক আর মেলামাইন সামগ্রীতে সয়লাব বাজার। ফলে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে রপ্তানি।


তবে এখনও ৩৫টি পরিবার টিকিয়ে রেখেছেন বাপ-দাদার পেশা। শ্রমিকের মজুরি, মাটি ও কাঠের দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় চাহিদা কমে যাচ্ছে শিল্পটির। এতে করে তাদের মনে ভড় করছে হতাশা আর নানা দুশ্চিতা। 

কারিগররা জানান, দীর্ঘ মেয়াদী সুদমুক্ত ঋনসহ নানা সহায়তা পেলে শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। অন্যথায় মুখ থুবড়ে পরবে এটি। আবার পেশা পাল্টানোর চিন্তÍা করছেন অনেকে
 
তবে পটুয়াখালী বিসিক শিল্প-নগরীরর সহকারি মহা-ব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জেল হক জানান, ডিজাইন সেন্টার থেকে এই শিল্পীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ঋনের সুবিধা রয়েছে । সেখান থেকে ঋন নিয়ে তারা সাবলম্ভী হতেপারে। 
 
সরকারি-বে-সরকারি কোন সংস্থার সহায়তা আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আবারো বিদেশে রপ্তানি হবে পটুয়াখালীর মৃৎশিল্প। আর ফিরো পাবে তার শিল্পটির হারানো সেই জৌলস।  এমনটাই প্রত্যাশা পটুয়াখালীবাসির।