তিতাসের ডাকবাংলো যেন ভূতুড়ে বাড়ি
তাসীন তিহামী,
প্রকাশিত : ০৫:৩৭ পিএম, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ রোববার
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গাজিপুরস্থ ডাকবাংলোটি। জীবজন্তুর বসবাস আর ঝোপ-ঝাড়ে বর্তমানে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। এটি দেখার যেন কোনো অভিভাবক নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বিতল ভবনটির চারপাশে সীমানা প্রাচীর দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে জেলা পরিষদের নির্মিত ডাকবাংলো। বড় বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আর লতাপাতায় ঘিরে আছে ভবনের চারদিক। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা।
সংস্কার না করায় বৃষ্টির পানিতে ভবনের দেওয়াল ও প্রাচীরগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিরাপদ আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে শিয়াল, কুকুর ও বিষাক্ত সাপের বসবাস। ভবনটির নিচতলায় জানালার কাচ ভেঙে গেছে। অনেকটাই থাকার অনুপযোগী। হঠাৎ করে যে কারও চোখ পড়লে মনে হবে এটি একটি ভূতুড়ে বাড়ি।
বাংলোর প্রধান ফটকে স্থানীয়দের ধোয়া কাপড় শুকাতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, ডাকবাংলোর গেট বেশ কয়েকবছর ধরে খোলা হয় না। তাই তারা এখানে কাপড় শুকাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সন্ধ্যার পর বাউন্ডারির ভেতর থেকে শিয়াল-কুকুরের ডাক শোনা যায়। মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসতে দেখায় বিষাক্ত সাপও। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভবনের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও ফার্নিচার। বাংলোটি দেখভালের জন্য একজন কেয়ার টেকার থাকলেও অজ্ঞাত কারণে বর্তমানে তাকে আর দেখা যায় না।
তিতাস উপজেলার নির্বাহী অফিসার এটি এম মোর্শেদ বলেন, তিতাসের ডাকবাংলোটির বিষয়ে আমার জানা নেই। এই প্রথম শুনলাম। তবে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবো। এ বিষয়ে আমাদের তেমন সংশ্লিষ্টতা নেই, আছে জেলা পরিষদের। তবুও বিষয়টি আমি দেখব।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি নিজেও এটি দেখে এসেছি। এই ডাকবাংলোটি করা হয়েছে উপজেলা থেকে অনেক দূরে। এই ভবনটি জেলা পরিষদ করলেও তার রক্ষনাবেক্ষণ করার দায়িত্ব ইউএনওদের। কিন্তু কোন ইউএনও এটির রক্ষনাবেক্ষণ না করাতে আর কোন অতিথি না যাওয়াতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই বিষয়ে আন্তরিক। সে আমাকে ফোন করেছিল। আমি তাকে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
