শাল্লায় কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা
শাল্লা প্রতিনিধি-
প্রকাশিত : ০৮:০০ পিএম, ২ জুলাই ২০২১ শুক্রবার
সরকারের কমিউনিটি ক্লিনিক মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় গ্রামীণ পর্যায়ে অগ্রনি ভূমিকা পালনসহ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত জরাজীর্ণতা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উক্ত সেবায় নিয়োজিত সেবাদানকারিদের বাধার সৃষ্টি করছে। এমনই দৃশ্য দেখা গেছে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ১নং আটগাঁও ইউনিয়নের উজানগাঁও কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে।
বৃহস্পতিবার ১জুলাই উজানগাঁও কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ৮ থেকে ৯বছর পূর্বে নির্মিত ভবনটির বেহাল দশা। ওই ভবনের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে রড দেখা যাচ্ছে এবং রডে ঝং ধরেছে। ভবনটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় ওই ভবনের ছাদ কিংবা ভবনটিই ধ্বসে যেতে পাড়ে। ক্লিনিকে উপস্থিত সেবাদানকারিগণ জানান আমরা অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে কাজ করছি এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থেকেই জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান যেকোনো সময় উজানগাঁও ক্লিনিক ভবনটি ধ্বসে প্রাণহানীর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উজানগাঁও গ্রামের দুই সহোদর সলিম মিয়া ও শামছু মিয়া উক্ত ক্লিনিকের ভূমি দাতা। তারা দুই ভাই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর বরাবর গত ১৯৯৯ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে ভূমি দান করেছেন। পরে সরকার উক্ত স্থানে গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ফ্লাড লেভেলের উপরে পাকা ক্লিনিক ভবন নির্মাণ করেন। স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত নিম্নমানের মালামাল দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করেছে। যার ফলে মাত্র কয়েক বছরেই ভবনটির এ অবস্থা হয়েছে।
ভূমি দাতা শামছু মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমরা দুই ভাই গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নিজেদের সম্পত্তি দান করেছি। কিন্তু কয়েক বছর আগের নির্মিত ভবনে ফাটল, আসলেই দুঃখজনক। আমি আশা করবো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষদের ভয়হীন সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দেবেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুমন ভূঁইয়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি শাল্লায় যোগদান করেই উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করেছি। প্রায় প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের এই অবস্থা দেখেছি এবং কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো মেরামত ও পুনরায় নির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান মি. ভূইয়া।
