বুধবার   ০৭ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৩ ১৪৩২   ১৮ রজব ১৪৪৭

শরীয়তপুরের সখীপুরে ফসলি জমি নষ্ট করে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর

প্রকাশিত : ১১:২১ এএম, ২৫ মে ২০২১ মঙ্গলবার

শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর চরসেনসাস বালাকান্দি গ্রামে জোর করে জমির গাছ ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে গ্রামের আজিজুল মাঝি গংদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী জমির মালিক নুরুল হক দেওয়ান (৫৫) এলাকায় শালিসদারের বিচার না পেয়ে   শরীয়তপুর আদালতে এসে একটি সি.আর মামলা দায়ের  করেন। 

২২ মে রবিবার বিকেলে নুরুল হক দেওয়ান বলেন, আজিজুল মাঝি (৬০) গংদের সাথে পূর্ব থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। যে জমি থেকে তারা আমার গাছ কেটেছে ও ফসল নষ্ট করেছে। সেই জমি আমার ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক সূত্রে মালিক।

আমার এই জমিতে চলতি বছরে মরিচ আবাদ করি। সময়মতো সার,কীটনাশক ও পরিচর্যা করায় অত্যান্ত ভালো হয় মরিচের ফলন। আসামীগন মরিচের ভালো ফলন দেখে লোভ-লালসা বেড়ে যায়। লোকমুখে জানতে পারি আসামীগন আমার স্বত্ব দখলীয় জমি থেকে জোর করে মরিচ ও জমির চারপাশের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে নিবে।  এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ মে মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় আসামিরা রামদা,ছেনদা, বাঁশের লাঠি সহ জীবন নাশক অস্ত্রপাতি নিয়ে আমার দখলীয় জমিতে গিয়ে কাঁচাপাকা প্রায় ২০ মন মরিচ তুলে নিয়ে যায়। যার মূল্য ৮ হাজার টাকা। সেই সাথে মেহগনি, চাম্বুল, রেইনট্রি সহ মোট ১৮ টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। যার মূল্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও আসামি আসলাম গাজী (৪০) আমার জমির মরিচ গাছ ট্রাক্টার দিয়ে চাষদিয়ে ভাংচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। এসব দেখে প্রত্যক্ষদর্শী সহ আসামিদের বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়েে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। তাদের টাকা না দিলে আমাকে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়। আমি তখন ডাক চিৎকার করলে আশে পাশের আরো লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিগন চলে যায়। যাওয়া সময় বলে, আমি যদি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করি তাহলে আমার পরিনতি অত্যন্ত খারাপ হবে বলে জনিয়ে দেয়। 

সরেজমিনে গিয়ে জমির গাছ কেটে নেয়া ও  জমির ফসল নষ্ট করার প্রমাণ পাওয়া যায়। ঘটনার দিন প্রতিবেশী মোসলেম খান (৪৫) জামাল উদ্দিন (৬০) ও খাদিজা (৩৫) বলেন, আমরা জানি এই সম্পত্তি নুরুল হক দেওয়ান এর। যারা গাছ কেটেছে তাদের দাবী  জমিও গাছ তাদের। কিভাবে অন্যের জমির গাছ  ও ফসল নষ্ট করে তা আমরা বলতে পারবো না। 

সূত্রে জানা যায়, আসামি আজিজুল মাঝি গংদের বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তেমনি একজন ভুক্তভোগী এলাকার আব্দুর রব দেওয়ান। 

আসামি আছলাম গাজী বলেন,আমি ট্রাক্টারের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করি। আমি জানি না এইটা ভেজালের জমি। আমাকে আজিজুল মাঝি (মাস্টার) হুকুম করেন জমি চাষ দিতে। প্রায় ২০ করা জমি চাষ করি। জমিতে তখন মরিচ ও কদুর ঝাঁকা ছিল। 

এবিষয়ে আসামী লিটন দেওয়ান বলেন, এলাকার মুরুব্বি দাউদ বালা, মাকসুদ বালা, ফারুক বালা অাক্তার মাদবর ও কামরুল বালা মিলে জমি ভাগাভাগি করে দিছে ৷ নুরুল হক দেওয়ানদের ভাগের জায়গায় তারা টিনের ঘর তুলে দখলে গেছে,অার আমাদের ভাগে মরিছ ক্ষেত পরছে, অামরা সেই জমিতে দখলে গেছি ৷ তখন শালিসরা উপস্থিত ছিল ৷ অার শালিসদের সিদ্ধান্ত মতে অামার বড় ভাই'র লাগানো গাছ অামরা কাইটা নিয়া অাইছি ৷

সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান হাওলাদারের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন নুরুল হক দেওয়ান এই বিষয়ে  আমার কাছে আসে নাই। যদি জায়গা জমিনের বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়, সেটা আদালত দেখবে।  নুরুল হক দেওয়ানের জমির মরিচ গাছ তুলে জোরপূর্বক কেহ যদি ধান রোপন করে থাকে, আর গাছ কেটে নিয়ে থাকে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।