শনিবার   ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   ফাল্গুন ২ ১৪৩২   ২৬ শা'বান ১৪৪৭

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন দুর্নীতির আখড়া !

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ০৪:০৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার

সিলেটের এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে । রোগিদের প্রতি চিকিৎসকদের অবহেলা, নাসিং পরীক্ষা পদে বিবাহিতদের স্থান দেওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য ও গেইট দারোয়ানদের রমরমা চাঁদা আদায় বাণিজ্য, রোগিদের সরকারী ঔষুধ না দিয়ে বাহির থেকে ক্রয় করানো, যথাসময়ে চিকিৎসক না পাওয়া সহ  বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

কোন কাজের কাজ হচ্ছেনা । এতকিছুরপরও মেডিকেল’র উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বা জনপ্রশাসন (জনস্বাস্থ্য) মন্ত্রনালয় নিরব । সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগিদের আসন থাকলেও বাস্তব রুপ ভিন্ন । আসন খালি রেখে উৎকুচের বিনিময়ে রোগিদের দেয়া হচ্ছে সেই আসন ।

রোগীর অভিভাবকদের বিপাকে ফেলে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৫০-১শ’ত (টাকা) চাঁদা। অন্যথায় রোগীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে ওয়ার্ডের ফ্লোর । তাছাড়া সকালবেলা ও দুপুরে হাতেগুণা দু’একজন সিনিয়র চিকিৎসক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের সাথে রেখে ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। চিকিৎসার বদলে তারা ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবায় ব্যস্থ্য ।

অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালের সরকারী চিকিৎসকরা বেশিরভাগ সময় সিলেট নগরীর অলিতে-গলিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধরণের ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে গিয়ে প্রাইভেট চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন । অনেক সময় ওসমানি মেডিকেলে বসেও রোগীদের দেখার সময় তারা নিজেই বলেদেয় সন্ধ্যারপর বা দুপুরে ওই..সেন্টার/চেম্বারে আসবেন এখানে এতো ভালো করে দেখা যাবেনা ?

তখন রোগীদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ঔষুধের লম্বা একটি স্লিপ ও টেস্ট পরিক্ষার কিছু দিকনির্দেশনা। সেই টেস্টগুলো ওই..সেন্টারে করানোর কথাও বলে দেয় চিকিৎসক নামের প্রতারকরা । এমনকি ঔষুধ ক্রয়ের ফার্মেসিটাও পর্য্যন্ত তারা নির্ধারন করে দেয় । সেই ঔষূধগুলোও মানসম্পন্নযুক্ত কি-না বা টেস্ট মন্দও আর ভালো হলো সেটা তাদের দেখার বিষয় নয় । তাদের লক্ষ্যও উদ্দেশ্যে শুধু টাকা উপার্জন করা ।

অথচ সে একজন ওসমানি মেডিকেলের সরকারী চিকিৎসক । একদিকে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করছে অন্যদিকে প্রাইভেট রোগী দেখার নামে জড়িয়ে পড়ছে অনিয়ম দুর্নীতিতে । যদি এসকল চিকিৎসকদের ধন সম্পদের হিসেব নেওয়া হয় তাহলে অচিরেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল । এছাড়াও রয়েছে সিনিয়র চিকিৎসকদের সাথে বিএম নেতাদের যোগসাযশ সর্ম্পক ।

ওই মেডিকেলে কোন সরকারী নিয়োগ আসলে তারা গোপনে একে অপরের সাথে বৈঠক করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের কাজ ছেড়ে ফেলে। তাদের কতিপয় চিকিৎসকরা এই অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছেন । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল’র এক কর্মচারি এ রমরমা বাণিজ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন । খুঁজ নিয়ে দেখা যায়, ছাত্রী নাসিং পদেও চলছে ধূমধামাকা ঢাকডোল । সরকারী নিয়ম ভঙ্গ করে বিবাহিত মেয়েদের ওই নাসিং পরীক্ষা পদেও অনেকে রয়েছেন বিশাল তবিয়তে !

তারপরেতো থাকলো গেইট পাশ বা নিম্নশ্রেণীর কর্মচারীদের দাপুটের অর্থ বাণিজ্যের লড়াই । প্রতি রোগীদের অভিভাবকদের নিকঠ হতে প্রকাশ্যে দিবালোকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে পঞ্চাশ টাকা করে চাঁদা । এ হিসেবে মেডিকেলের ফান্ডে গেইট পাশের চাঁদা’র  টাকা প্রতিদিন অন্তত ৪/৫লাখ টাকা জমা হয় । আর মেডিকেল কতৃপক্ষ বিপাকে পড়লে দু’একজন গার্ডদের দোষারোপ দেখিয়ে তারা নিজেকে নিরাপদ করে নেয় । এদিকে ভুক্তভোগি বেশ ক’জন রোগী জানান, বেশিরভাগ ঔষুধ তাদেরকে বাহির থেকে ক্রয় করে আনতে হচ্ছে ।

ছোট একটি স্লিপ(টোকেন) রোগীদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয় ওয়ার্ডের নার্স’রা । তাছাড়া ঠিকমতো ডাকাতারও পাওয়া যায়না । নার্স ও ইর্ন্টানি ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও ভুক্তভোগিদের অভিযোগ। তারা প্রতিবেদকের নিকঠ অভিযোগ করে বলেন, যারা ওয়ার্ড বয় রয়েছে তারাও চাঁদা নেয় একটি রোগী বহনকারী আসন থেকে, একটি হুইল চেয়ার ব্যবহার করলেও তাদের টাকা দিতে হয় ১শ’ত টাকা করে।

আর লিপ্ট ব্যবহার করেন মেডিকেল কতৃপক্ষরা সেটাও রোগীরা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেননা । অনেক রোগী তাদের চিকিৎসার অবহেলার কারনে রেফার্ড নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন । এতে এই মেডিকেলের প্রতি লোকজনের অনাস্থা দিন দিন বাড়ছে বলে জানান তারা ।

উল্লেখ্য থাকে যে, ওই মেডিকেলের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ইতিমধ্যেই সামাজিক ও যোগাযোগ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কোন টনক নড়ছেনা । এরফলে অনিয়ম দুর্নীতির শেকড় মেডিকেলে ছেয়ে গেছে । এর শেষ কোথায় কেউ তা জানেন না ?