অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে নীলফামারী জেলাশিক্ষা অফিসারের কড়া নজরদারি
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৩৫ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ বুধবার
করোনা মহামারির কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় নীলফামারী জেলায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যথাযথভাবে নির্ধারিত পাঠদান সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর সকল ধরনের পরীক্ষা না নিয়ে অ্যাসাইমেন্ট মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তী ক্লাসে উত্তির্ণ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে শতভাগ অ্যাসাইমেন্ট গ্রহন আর সেই অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম। জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে অ্যাসাইনমেন্ট জমা ও মূল্যায়নে কড়া পদ্ধতি পরিদর্শন করছেন জেলার এই শিক্ষা কর্মকর্তা। এছাড়া অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদেরও স্কুল গুলোর উপর নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জেলার নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ছমির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ, টেংগনমারি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমাদের স্কুলের সকল শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছে এখন অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন করছেন শিক্ষাকেরা। এছাড়া জেলা শিক্ষা অফিসার মহদয়ের নির্দেশে আমাদের শিক্ষকেরা যেন অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে অবহেলা না করে সেদিকে আমরা নজর রেখেছি। তাছাড়া জেলা শিক্ষা স্যার নিজেই আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে নানা বিষয়ে দিক নির্দেশনা সহ অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন।
টেংগনমারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আশেকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ফেইসবুক ইউটিউব দেখে অ্যাসাইনমেন্ট না লিখে সে বিষয়ে আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে সচেতন করে দিচ্ছি। এছাড়া একজন শিক্ষার্থী তার সহপাঠীর অ্যাসাইনমেন্ট যেন কপি করে জমা দিচ্ছে নাকি আমরা সে বিষয়ে লক্ষ রাখছি।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমবে, তারা সূক্ষ্ম চিন্তা করতে শিখবে এবং সৃষ্টিশীল হবে। পরীক্ষা দেওয়ার সময় তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, পরীক্ষা–ভীতি চলে যাবে এবং পরীক্ষা হয়ে উঠবে শিখনফল অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।
অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে শিক্ষকদের ১২টি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (মাউশি)। আর আমরা সেই নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন যেন সে বিষয়ে নজরদারি রাখছি। সার্বক্ষনিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নে কোনো শিক্ষক অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
