শুক্রবার বৃহত্তর লাকসাম মুক্ত দিবস
প্রকাশিত : ০১:৫০ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার
১১ ডিসেম্বর শুক্রবার সাবেক বৃহত্তর লাকসাম বর্তমান (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট) মুক্ত দিবস। ১৯৭১ এর এ দিনে লাকসাম হাইস্কুল মাঠে নজির আহমেদ ভুঁইয়ার প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলকে শত্রম্নমুক্ত ঘোষণা করেন স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিবাহিনীর প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে পাকবাহিনী লাকসাম থেকে পালাতে বাধ্য হয় এ দিনে।
সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনারা প্রথমে লাকসাম জংশন ও দৌলতগঞ্জ বাজার দখলে নিয়ে লাকসাম সিগারেট ফ্যাক্টরিতে স্থায়ী ক্যামপ স্থাপন করে। আর এখান থেকেই চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনীসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা নিয়ন্ত্রণ করতো। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড লাকসামে অবস্থানরত পাকবাহিনীর উপর আক্রমণ শুরম্ন করে। পরবর্তীতে মিত্র বাহিনী লাকসাম জংশন ও সিগারেট ফ্যাক্টরীসহ বিভিন্ন অবস্থানের উপর বিমান হামলা চালিয়ে পাকসেনাদের তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে। দুই দিন ধরে প্রচন্ড যুদ্ধের পর পাক বাহিনী লাকসাম থেকে পশ্চিম দিকে মুদাফরগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরের দিকে পালাতে থাকে। পালানোর সময় মিত্র বাহিনী চুনাতী নামক গ্রামে এবং মুক্তিবাহিনী শ্রীয়াং ও বাংলাইশে পাক বাহিনীকে মুখোমুখি আক্রমণ করে। এ সকল আক্রমণে পাকবাহিনীর অসংখ্য প্রাণহানিসহ অনেক পাকসেনা বন্দি হয়। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর ভোরে যেৌথবাহিনী লাকসামকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করে।
এদিকে লাকসাম মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাল শুক্রবার আলোচনা সভার আয়োজন করবেন বলে জানা গেছে। এতে যুদ্ধকালীন কমান্ডাররা স্মৃতিচারণ করবেন বলেও জানা যায়।
