বুধবার   ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২৯ ১৪৩২   ২৩ শা'বান ১৪৪৭

সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি উৎপাদনে ধুম, কর্মব্যস্ত জেলেরা

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৮:৩৪ পিএম, ৩ ডিসেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার

সূর্য ওঠার আগেই জেলেরা সাগর মোহনায় মাছ শিকার করে সেই মাছ টলারযোগে নিয়ে চরে আসেন। চরে টলার আসা মাত্রই দু’জন জেলে কাঁধে বাঁশ চাপিয়ে মাছ ভর্তি ঝুঁড়ি নিয়ে রওনা হয় শুঁটকি পল্লীতে। তারপর তা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি প্রক্রিয়া করা হয়। দিন-রাত এসব জেলেরা সাগরে নেমে মাছ সংগ্রহ এবং একই সঙ্গে তা শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করছেন। জেলেদের এমন কর্মব্যস্ত দৃশ্যের দেখা মেলে সুন্দরবনের দক্ষিণে অবস্থতি দুবলার চরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুবলার চরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লীর ঘরগুলো তৈরি করা হয়েছে ছোন ও বাঁশ দিয়ে। সাগর থেকে ধরে আনা মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদনের ধুম পড়েছে এ পল্লীতে। লইট্যা, ছুরি, চিংড়ি, রূপচাঁদা, খলিসা, ইছা, ভেদা, পোয়া, দাইতনাসহ অন্তত একশ’ প্রজাতির শুঁটকি  তৈরি করা হয় এই পল্লীতে। বাঁশের মাচা করে ও পাটিতে খোলা আকাশের নীচে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি। এখানে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা ভীষণ মুগন্ধতা নিয়ে শুঁটকি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। সাগর থেকে মাছ ধরে জেলেদের ফিরে আসার দৃশ্য ও শুঁটকি তৈরি এবং বেচা বিক্রির দৃশ্য সত্যিই মনোলোভা ও উপভোগযোগ্য।
বঙ্গোপসাগর উপকূলে মেহের আলীর খাল, আলোরকোল, মাঝেরচর, অফিসকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া, মানিকখালী, ছাফরাখালী ও শ্যালারচর ইত্যাদি এলাকায় অস্থায়ী জেলে পল্লী স্থাপিত হয়। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জে এ চরগুলো অবস্থিত। চার মাস তারা মাছকে শুঁটকি বানাতে ব্যস্ত থাকেন। চলতি শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে ভীষণ জমজমাট হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের দুবলার চরের জেলে পল্লী। এখন পুরোদমে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছে। সমুদ্র থেকে মাছ এনে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করছেন হাজার হাজার জেলেরা।


শুঁটকি ব্যবসায়ী দেবু বিশ্বাস বলেন, দুবলার চরের শুঁটকি মাছ চট্টগ্রাম, সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। করোনার কারণে এবার শুঁটকির দাম কিছুটা কম। লইট্যা শুঁটকি পাইকারি এক মণ বিক্রি হয় ১১-১২ হাজার টাকা। বড় ছুরি মাছ ৩০-৩৫ হাজার, ছোটটা ৩৮ হাজার টাকা। রূপচাঁদা বড়টা ৮০ হাজার টাকা মণ। ছোটটা ৪০ হাজার। ইছা শুঁটকি বড়টা ৪৪ হাজার, ছোটটা ২৪ হাজার টাকা মণ। তিনি জানান, প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে এ অস্থায়ী পল্লীতে মাছ শুঁটকির কাজ। নির্ধারিত রাজস্ব দিয়ে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লীতে অস্থায়ী ঘর করে সামুদ্রিক মাছ আহরণ করে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার শুঁটকি খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত ২০১৮-১৯ শুটকি আহরণ মৌসুমে জেলেদের আহরিত ৪১ হাজর ৫৪ কুইনন্টাল শুঁটকি থেকে বন বিভাগ ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ও ২০১৯-২০ মৌসুমে ৪৪ হাজর ৭১৩ কুইনন্টাল শুঁটকি থেকে বন বিভাগ ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।