খুলনার বড় বাজারের তিনশ’ দোকান রক্ষা পেল ভৈরবের ভাঙন থেকে
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:১০ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০২০ শনিবার
ভৈরব ও রূপসা নদীর ভাঙন থেকে খুলনা শহর রক্ষা প্রকল্পের কাজ ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর মধ্যদিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন ও বড় বাজারের তিনশ’ দোকান ভৈরব নদের ভাঙন থেকে রক্ষা পেল।
খুলনা শহর রক্ষা প্রকল্প নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৩১ মার্চ খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে সাত দফা দাবির অনত্যম ছিল শহর রক্ষা প্রকল্প। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি শহর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি তুলে আসছে।
৬০’র দশক থেকে ভৈরব ও রূপসা নদের ভাঙন দেখা দেয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন, জেলখানা ঘাট এলাকায় ইট-বালু ব্যবসায়ী ও বড় বাজারের আড়ৎদাররা বিভিন্ন সময় হুমকির মুখে পড়েন। রূপসা ও ভৈরব নদের ভাঙন খুলনাবাসীর জন্য ছিল আতংক। স্বাধীনতার পরপর বিভিন্ন সময় ভাঙনে বড় বাজারের অনেক আড়ৎ বিলুপ্ত হয়েছে। খুলনা বড় বাজার বাণিজ্য কেন্দ্র রক্ষার জন্য স্বাধীনতা উত্তরকাল থেকে বিভিন্ন ফোরামে দাবি উঠে আসছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা-২ রূপসা ও ভৈরব নদের ভাঙন থেকে খুলনা শহর রক্ষার জন্য বড় প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই ৯৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, আগামী জুন নাগাদ এ কাজ শেষ হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ফলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিস, আবাসিক এলাকা, রুজভেল্ট জেটি নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি রূপসা নদীর প্রতিরক্ষা কাজ নির্মাণের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা জজের বাসভবন ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।
খুলনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্যামল কুমার হালদার জানান, এ বাঁধের ফলে ভৈরব নদের ভাঙন থেকে ব্যবসায়ীরা রক্ষা পাবে। হাসপাতাল ঘাট থেকে ডাবঘাট পর্যন্ত আনুমানিক ১৫শ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিমুক্ত হবে। শহর রক্ষা প্রকল্প বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের স্থানীয় রাজনীতিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।
খুলনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান জানান, দেশের তিনটি বাণিজ্য কেন্দ্রের মধ্যে খুলনা অন্যতম। ভৈরব নদ সংলগ্ন বড় বাজার বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন হাজার-হাজার বস্তা পণ্য বিভিন্ন নৌযানে ওঠানামা করে। মজবুত বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হলে ব্যবসায়ীদের সম্পদ ও প্রতিষ্ঠান রক্ষা পাবে। মালামাল ওঠানামা সহজ হবে। দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে, ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে সংসদে প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নদীর ভাঙন থেকে খুলনাকে রক্ষা করার সব ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
