রোববার   ১১ জানুয়ারি ২০২৬   পৌষ ২৮ ১৪৩২   ২২ রজব ১৪৪৭

শরীয়তপুরে প্যানেল চেয়ারম্যানকে সাবেক চেয়ারম্যান পুত্রের প্রহার

নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৮:০৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০ বুধবার

গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ সন্ধ্যা সাতটার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ডিএম খালি ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে । মাস্টার জসীমউদ্দীন মাদবর প্রায় সাড়ে চার বছর ডিম খালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের দায়িত্ব পালন করেন। গত ৪ জুন ২০১৬ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ডিম খালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। ডিম খালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই  ওই ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রাম অঞ্চলে গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং সার্বিক সহযোগিতা করতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ,ধর্মীয় ,রাজনৈতিক , জনকল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কার্যক্রমে ছিল তার অংশগ্রহণ।এছাড়াও তিনি ছিলেন ডিম খালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের  সভাপতি , ডি এম খালি চরবয়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সিরাজ সিকদার ডিগ্রী কলেজের আজীবন দাতা সদস্য, ডি এম খালী বাজার কমিটির সভাপতি, ডি এম খালী মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং চর বয়রা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে আসেন।

করোনাকালীন দুঃসময়ে ছিল তার অসাধারণ অবদান। মানুষ মরণশীল চিরন্তন সত্য কথা তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ডি এম খালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মাদবর করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৬অক্টোবর ২০২০ ঢাকার একটি বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতালে মারা যান। চেয়ারম্যান মারা যাওয়ার পর থেকেই ডি এম খালি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ওই চেয়ারে বসার জন্য ওই ইউনিয়নের কয়েকজন মেম্বার বিভিন্ন নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে। কিন্তু ভেদরগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান হুমায়ুন মোল্লার দয়ায় ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শরফুদ্দিন ১ নং প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে। প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শরফুদ্দিন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর ২০২০ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে থাকা প্রয়াত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মাদবর এর ব্যবহৃত আলমারি ভেঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দলিল সহ কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ওই আলমারী ভাঙ্গার সময় ইউনিয়ন পরিষদে কোন লোক উপস্থিত ছিল না।

গোপন সূত্রে জানতে পেরে চেয়ারম্যান পুত্র নাসিম মাদবর সহ তার বিএনপি ও জামাত-শিবিরের লোকজন নিয়ে এসে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে ঢুকে প্যানেল চেয়ারম্যান শরফুদ্দিন কে মারধর করে। জানা গেছে মোহাম্মদ নাসিম মাদবর ১৪৩ নং ফজিলাতুন্নেছা ওয়াদুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মুঠোফোনে প্যানেল চেয়ারম্যান শরফুদ্দিন ঢালির নিকট মারধরের ঘটনাটি জানতে চাইলে তা স্বীকার করে তবে আলমারির ড্রয়ার ভাঙ্গার বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মুঠোফোনে আলাপকালে চেয়ারম্যান পুত্র নাসিম মাদবর গণমাধ্যমকে বলেন ইউনিয়ন পরিষদে থাকা আমার বাবার ব্যবহৃত আলমারির ড্রয়ার ভেঙ্গে ফেলে  শরফুদ্দিন। ঐ কারণে রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে লোকজন নিয়ে শরফুদ্দিন কে মারধর করি। সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান হাওলাদার এর  সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান ইউনিয়ন পরিষদের মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী প্যানেল চেয়ারম্যান -১ শরফুদ্দিন ঢালি এজাহার নামীয় চারজন এবং অজ্ঞাত ১৫থেকে 20 জনকে আসামি করে মামলা করে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।