শরীয়তপুরে পুত্র বধুকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা
নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৩৩ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০২০ রোববার
শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিম খালি ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি ২ নং ওয়ার্ডে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম (২৫) কে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন, ঐ পুত্রবধূর শশুর জামাল হাওলাদার (৭০) শাশুড়ি ফখরুল নেশা (৬০) এবং জামাল হাওলাদারের বড় ছেলের বউ শাহনাজ বেগম (৪৫)।
ঘটনাটি ঘটে গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে মোহাম্মদ জামাল হাওলাদার (৭০) এর পুত্র লিটন হাওলাদার বর্তমানে সৌদি প্রবাসী এবং চাঁদপুর হাইমচর গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া বেগমের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে গত ২০১৪ সালের ২৪ জুন লিটন হাওলাদার এবং রাবিয়া বেগম সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর থেকেই চলে পুত্রবধূ রাবেয়ার উপর, শশুর -শাশুড়ি -বাসুর ও বাসুরের স্ত্রীর অমানবিক নির্যাতন। ইতোপূর্বে তারা রাবেয়াকে কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ এলাকায় কয়েকবার সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসা করা হয় । রাবেয়া তার জীবনের নীরাপত্তার কথা ভেবে সৌদি প্রবাসী স্বামীর অনুমতি ক্রমে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। গত ২৯ অক্টোবর আহত রাবেয়া বেগম জমি দলিল করার জন্য শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস কার্যালয় ঢাকা হইতে আসেন এবং জমি দলিল করার পর জমির দলিলের জটিলতার কারণে তার নিজ শ্বশুরবাড়িতে থেকে যান। পূর্বের বারবার হত্যাচেষ্টার ঘটনা ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাবেয়া বেগমের স্বামী লিটন হাওলাদারের বড় ভাই কামাল হাওলাদার এবং তার বাবা-মা ও তার নিজ স্ত্রী কামালের পরিকল্পনার মাধ্যমে এবারও রাবিয়া বেগম কে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ঐ রাতে আহত রাবেয়া বেগমের সাথে ছিল তার ছোট মেয়ে লামিয়া আক্তার ইভা (৫)। পরের দিন শুক্রবার সকালে রাবিয়ার শ্বশুর-শাশুড়ি ও জা মিলে পরিকল্পনা করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে হাত মিলিয়ে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এমনকি বাড়িতে ডাক্তার ডেকে এনে আহত রাবেয়াকে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করে। রাবিয়া কে হুমকি ধামকি ভয়-ভীতি দিয়ে থানায় যেতে বাধা দেয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা জেনে গেলে তাদের সাহায্যে রাবিয়া বেগম সখীপুর থানায় অভিযোগ করতে সক্ষম হয়।
আহত রাবিয়া বেগম ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বর্তমান ডিম খালি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরফ উদ্দিন এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে গতকাল ৭ নভেম্বর সখিপুর থানার মাধ্যমে জানতে পারি। তিনি আরো বলেন আহত রাবিয়া বেগমকে দেখার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে লোক পাঠিয়েছি।
এ ব্যাপারে সখিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ আসাদুজ্জামান হাওলাদার এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন লিটন হাওলাদারের স্ত্রী রাবেয়া বেগম এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
