বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ৩০ ১৪৩২   ২৪ শা'বান ১৪৪৭

শাল্লায় পিঠিয়ে দাঁত ভেঙ্গে দিলো চাবিক্রেতার, সন্ত্রাসী জেলহাজতে

শাল্লা প্রতিনিধি-

প্রকাশিত : ০৭:৫২ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০ মঙ্গলবার

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা সদরে প্রকাশ্যে নিরঞ্জন দাস (৩৫) নামের এক চা বিক্রেতার উপর সন্ত্রাসী হামলার দায়ে ফণি তালুকদার (২৮) নামের এক জনকে আটক করে শাল্লা থানায় সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা সদরের সোহেল মিয়ার ঘরের সামনে রাস্তায় এঘটনা ঘটে।

অর্তকিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত নিরঞ্জন দাসের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করেছে শাল্লা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহত নিরঞ্জন দাস উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের মৃত ভবানী দাসের বড় ছেলে বলে জানা যায়।
  
উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী ফনি তালুকদার একই ইউনিয়নের নাইন্দা গ্রামের বরুন তালুকদারের ছেলে। এঘটনায় আহত নিরঞ্জন দাসের ছোট ভাই চিত্তরঞ্জন দাস বাদী  হয়ে শাল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায় নিরঞ্জন দাসের মোবাইলে বেশ কয়দিন ধরে ফনি তালুকদার বিভিন্ন রকমের গালিগালাজ সহ প্রান নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। 

বিষয়টি নিরঞ্জন দাস ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজার কমিটিকে অবহিত করলে ফনির বাবা বরুণ তালুকদারকে জানানো হয়। শুনে বরুণ তালুকদার নিজে এসে ছেলের ভুলের জন্য নিরঞ্জন দাসের নিকট ক্ষমা চেয়ে  মিটমাট করেন। এসব বিষয় শুনার পর ফনি ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার বাজারে এসে কোদালের একটি  নতুন বাট (আছার) ৬০ টাকায় ক্রয় করে সোহেল মিয়ার ঘরের সামনে ওৎ পেতে থাকে। সেই মুহুর্তে চা বিক্রেতা নিরঞ্জন দাস সুলতানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান হাবিব ও ব্যবসায়ী হরিপদ তালুকদারের সঙ্গে বাজারের ভিতরে যাওয়ার পথে ফনি সন্ত্রাসী কায়দায় সবার সামনে তার উপর আক্রমণ চালায়। এতে নিরঞ্জন দাসের ১টি দাঁত পরে যায় এবং আরও ২টি দাঁতে বড় ধরণের আঘাত লাগায় সে মাটিতে লুটিয়ে পরে। মাটিতে পরার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসী ফনি আহত নিরঞ্জন দাসের উপর আরো ৩টি আঘত করে তার হাতে থাকা কোদালের বাট দিয়ে। এসময় পাশের লোকজন ছুটে এসে ফনিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনিয়ে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবির সরকার পান্না বলেন, ফণি তালুকদার সন্ত্রাসী কায়দায় যে ভাবে নিরঞ্জন দাসের উপর আক্রমণ করেছে সেটি খুবই দুঃখ জনক। নিরুপায় হয়ে জনতা আটক করে ফণিকে পুলিশে দিতে বাধ্য হয়েছে।
              
এবিষয়ে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক এর সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত নিরঞ্জন দাসের ছোট ভাই বাদী হয়ে ফনি তালুকদারকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যা শাল্লা থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। অপরাধী ফনি তালুকদারকে মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করেছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।