ডিএনএ রিপোর্ট নেগেটিভ: ৬মাস পর ধর্ষণ মামলায় জামিনে আয়নাল বেপারী
নুরুজ্জামান শেখ শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:২৮ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০ রোববার
শরীয়তপুরে ধর্ষণ মামলার আসামি আয়নাল বেপারী (২৪) পিতা-মোহাম্মদ ইসহাক বেপারী স্থায়ী গ্রাম বিকে নগর পশ্চিম কাজিকান্দি -জাজিরা দীর্ঘ ছয় মাস ২৩দিন জেল খাটার পর তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় জামিন পেলেন। বর্তমানে ধর্ষণ মামলার আসামি আয়নাল বেপারী তার মা বাবা ভাই বোন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শরীয়তপুরে প্রাণকেন্দ্র সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজ এর সংলগ্ন রিপনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন এবং জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে আয়নাল বেপারী ও তার বড় ভাই সহ শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পশ্চিম পাশে এবং শরীয়তপুর স্টেডিয়াম প্রধান সড়কের পাশে মেসার্স মায়ের দোয়া ফার্নিচার এই নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা করেন। সরেজমিন গিয়ে জানা যায় এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক আয়নাল বেপারী অত্যন্ত সৎভাবে ও সুনামের সহিত ব্যবসা করে আসছেন।
আয়নাল বেপারী ২০১৬সালে তার ব্যবসাকে বড় পরিসরে করার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ধানুকা স্টেডিয়ামের পাশে ৮ শতাংশ জমি কিনে ফার্নিচার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। মায়ের দোয়া ফার্নিচার কারখানা প্রতিষ্ঠিত করার পর থেকেই সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন কালুর এলাকার স্থানীয় সন্ত্রাসী বখাটে মাদক নেশাগ্রস্ত কিছু চাঁদাবাজ আয়নালের কাছে বিভিন্ন সময়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু আয়নাল তাদেরকে চাঁদা না দেওয়ায় শত্রুতে পরিণত হয়। ওই কারখানার পাশেই এ/পি-নূর হোসেন দেওয়ানের বাড়িতে বাড়া বিহীন মনিকা আক্তার ১৪ পিতা বিদেশ প্রবাসী, তার সৎ মা রানু বেগম এবং দাদা রিকশাচালক সেকেন্দার মাল (৬০) ও দাদি ফাতেমা বেগম (৫০) কে নিয়ে একসাথে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে এই মনিকা আক্তার তার দাদা ও তার সৎ মা এই তিনজন মিলে বিভিন্ন ধনী ছেলেদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে টাকা আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ও ধর্ষণের মতো জঘন্যতম কথা বলে বিভিন্ন কৌশলে পয়সাওয়ালা যুবক ছেলেদেরকে ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি এই মনিকা আক্তার ও তার সৎ মা ওই স্থানীয় মাদক নেশা খোর ,চাঁদাবাজ, বখাটে, জুয়াখোর তাদের সাথে হাত মিলিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও শরীয়তপুর সদর পৌরসভার সাবেক মেয়র এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর বসবাসরত ধানুকার বাগানবাড়িতে সন্ধ্যার পরে স্থানীয় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা জুয়া মাদক নেশা ধর্ষণের মতো বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে। জুয়াখোর মাদক নেশাগ্রস্থদের সাথে হাত মিলিয়ে এই (১৪) বছরের মনিকা আক্তার ও তার সৎ মা রানু বেগম বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। সম্প্রীতি এই ঘটনার পূর্বে এই মেয়ে আরো তিনটি ঘটনা ঘটিয়েছে প্রথম ঘটনা আংগারিয়া বাজারের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী বিক্রমপুরের ছেলে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে ফাঁসিয়ে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা সালিশের মাধ্যমে হাতিয়ে আনেন এবং দ্বিতীয় ঘটনা পালং উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের মজুমদার কান্দির এক ছেলের সাথে মোবাইল ফোনে প্রেম করে ফাঁসিয়ে ওই স্থানীয় গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ও অসাধু চক্রের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আনেন এবং তৃতীয় ঘটনা শরীয়তপুর সরকারি কলেজের কাছে ধানুকা বাজারে এক বইয়ের লাইব্রেরী ব্যবসায়ী সাথে ইমুতে প্রেম করে এবং অশ্লীল ছবি ধারণ করে ওই ছেলেকে ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পূর্বের ঘটনা ধারাবাহিকতায় বজায় রেখে ফার্নিচার ব্যবসায়ী আয়নাল বেপারীকে ধর্ষণের মতন জঘন্যতম ও ঘৃণিত কাজের অপবাদ দিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে।বাদী দাদা সেকেন্দার মাল ও তার সৎ মা রানু বেগম, মনিকা এই তিনজন মিলে আয়নাল এর কাছয়থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর পরিপেক্ষিতে মনিকা আক্তার এর দাদা সেকেন্দার মাল (৬০) তার করা ধর্ষণ মামলার এজাহারে উঠে আসছে তার ওই প্রতিবেশী লাভলী বেগমের সাথে ফার্নিচার ব্যবসায়ী আয়নাল বেপারী এর সাথে সুসম্পর্ক আছে ,সেই সম্পর্কের জেরে লাভলী বেগম(৪৫), মনিকাকে তার বাসায় ডেকে বিয়ের কথা বলে, আয়নাল কেও নিয়ে যায় এবং গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে লাভলী বেগমের বাসায় মনিকা আক্তার এর সাথে ও আয়নালের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই এজাহারে বলা আছে ঠিক তার একদিন পর ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মনিকা আক্তার সন্ধ্যার দিকে ধানুকা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী ডাক্তার বাবুলের বাড়ি থেকে ঔষধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে আয়নাল ব্যাপারী মনিকা আক্তার কে জোর করে নিয়ে হবি সরদারের পরিত্যক্ত বিল্ডিং এর ভিতরে ধর্ষণ করে ফেলে যায় এবং পরের দিন অসুস্থ অবস্থায় মনিকা আক্তার বাড়ি ফিরেন।
এই বিষয়টি মনিকা আক্তার ওরফে টুনি তার পরিবারের দাদা সেকেন্দার মাল, দাদি ফাতেমা বেগম এবং সৎ মা রানু বেগম কে জানালে তার দাদা সেকেন্দার মাল (৬০)বাদী হয়ে পালং থানায় ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২টা ৪০ মিনিটে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০এর সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(১)৩০ ধারায় মামলা করেন। এই মামলার ভিকটিম মনিকা আক্তার ওরফে টুনি(১৪) এবং এই মামলার আসামি মোঃ আয়নাল বেপারী (২৪)উভয় দয়কে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ডিএনএ এনালাইসিস টেস্টের জন্য ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাবে ঢাকার মালিবাগে বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি ভবনে পাঠানো হয়। অত্র মামলার ভিকটিম মনিকা আক্তার ওরফে টুনি (১৪) এবং আসামি মোঃ আয়নাল বেপারী (২৪), উভয় দ্বয়ের ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা গেছে এই মামলার আসামি মোঃ আয়নাল বেপারী (২৪) নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্টে আসামি মোঃ আয়নাল বেপারী নির্দোষ প্রমাণিত হলেও পালং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ধানুকা এলাকার ফার্মেসি ওষুধ ব্যবসায়ী ডাক্তার বাবুলের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন (১০)ফেব্রুয়ারি ঐদিন আমার কাছ থেকে কোন ওষুধ আনিনি তিনি আরো বলেন ও হলো ছোট মেয়ে ওর কাছে আমি কখনো ওষুধ বিক্রি করিনি।
আসামি মোঃ আয়নাল বেপারী (২৪) তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন আমি এই জঘন্যতম ঘৃণিত অপরাধের সাথে জড়িত নই। আমাকে এবং আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার লক্ষে ওই এলাকার অসাধু কুচক্র মহল (১৪) বছরের মেয়ে মনিকা আক্তারকে দিয়ে ফাঁসিয়েছে। আমাকে ধর্ষণ মামলা দেওয়ার কারণে আমি ৬ মাস ২৩ দিন বিনা দোষে জেল খেটে জামিনে বের হয়েছি। এই মিথ্যে মামলার কারণে আমার মান সম্মান ইজ্জত টাকা-পয়সা সবই হারিয়েছি। আমি এখন সাংবাদিক এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আকুল আবেদন এবং আদালতের কাছে এই মামলার সঠিক বিচার দাবি জানাচ্ছি।
