শরীয়তপুরে এতিমখানার টাকা আত্মসাত করে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:২২ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার
শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ভোজেশ্বর বাজারে সাবেক চেয়ারম্যান নুরু বয়াতির বাবা শহীদ ইয়ার উদ্দিন বয়াতি ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে ভোজেশ্বর বাজারে মসজিদ ও মাদ্রাসার পাশে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এই হেফজখানা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাফেজ মাওলানা গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘ বছর শিক্ষক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শহীদ ইয়ার উদ্দিন বয়াতি এতিমখানা ও মাদ্রাসা দায়িত্ব পালনকারী হাফেজ মাওলানা গিয়াসুদ্দিন সাহেবের মৃত্যুর পর তার মেয়ের জামাই হাফেজ মোক্তার আহমেদ মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হাফেজ মোক্তার আহমেদ এর স্থায়ী বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে হাফেজ মোক্তার আহমেদ হেফজখানা মাদ্রাসা ও শহীদ ইয়ার উদ্দিন বয়াতি এতিমখানার দায়িত্ব পালন করেন । এই এতিমখানার এতিম ছাত্রদের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান সমাজসেবা থেকে সরকারি অনুদানের টাকা উত্তোলন করে বেশিরভাগ অংশই আত্মসাৎ করতেন স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শহীদ ইয়ার উদ্দিন বয়াতি এতিমখানার এতিমদের নামে টাকা উত্তোলন করার জন্য নুরু বয়াতির ছেলে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সোহেল বয়াতি কে সভাপতি ও এই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মুক্তার আহমেদ কে সাধারণ সম্পাদক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩ অক্টোবর ২০২০ সরেজমিন ঘুরে ওই মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্রদের কাছ থেকে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানা গেছে অসাধু দুর্নীতি পরায়ন হাফেজ মুক্তার হোসেন এই এতিমখানায় জনগণের দান টাকা পয়সা হাঁস মুরগি গরু ছাগল, মাছ মাংস এবং চাল, কাঁচা বাজার দানকৃত এর বেশিরভাগ অংশই চুরি করে গোপনে ভ্যানগাড়ি যোগে তার বাড়িতে নিয়ে যেত, এমনকি সে তার স্ত্রীকে দিয়ে ওই বাড়ির আশেপাশের বিভিন্ন মানুষের কাছে এই পণ্যগুলি অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতো। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এতিমখানায় সব সময় ২৫থেকে ৩০ জন ছাত্র থাকতো কিন্তু হাফেজ মুক্তার আহমেদ এতিমখানায় ৬৩জন এতিম দেখিয়ে সমাজ সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা উত্তোলন করতেন। ইতোপূর্বে এতিমখানা এতিমদের জন্য ১৭-১৮ অর্থবছরে এবং১৯-২০অর্থবছরের প্রায় ১৬ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করেন। এই কমিটির অন্য অন্য সদস্যরা হাফেজ মুক্তার আহমেদ এর কাছে খরচের হিসাব চাইলে বিভিন্ন সময়ে তালবাহানা করেন এবং এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতিমখানার মহিলা বাবুর্চি বিধবা রেহানা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন আমি এই এতিমখানায় প্রায় ১৫ বছর যাবত বাবুর্চির দায়িত্ব পালন করেছি ,এই ১৫ বছরে আমি দেখেছি হাফেজ মোক্তার আহমেদ তার দূর্নীতি-অনিয়ম। বাবুর্চি রেহানা বেগম আরো বলেন হাফেজ মোক্তার আহমেদ এর চরিত্র অত্যন্ত খারাপ মাঝেমধ্যে বলাৎকারের মতন জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়েছে এবং এই মাদ্রাসার এতিমের জন্য দানকৃত একটি খাসি ছাত্রদের না খাইয়ে তার মেয়ের বিয়ের অতিথি কে আপ্যায়ন করেন, এই মাদ্রাসার দানকৃত একটি ষাঁড় বাছুর বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন, এতিমখানায় জনগণের দানকৃত হাঁস মুরগি গরু ছাগল দালালদের মাধ্যমে গোপনে বিক্রি করে দিতেন। হাফেজ মুক্তার আহমেদ কে বহিস্কৃত ঘটনার আগেএই এতিমখানায় একটি বড় মোরগ দান করলে সেই মোরগ তার বাড়িতে নিয়ে তার শালাকে কে খাওয়ান। তিনি আরো বলেন এই হাফেজ মুক্তার আহমেদ আমার সাথে ও খারাপ আচরণ করতন ,আমি উচিত কথা বললে আমার সাথে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করত।
তার এই জঘন্যতম কর্মকাণ্ডের কারণে এই মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গণমাধ্যমকে বলেন এই অসাধু দুর্নীতিবাজ চরিত্রহীন হাফেজ মোক্তার আহমেদ এই এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে চান্দনি বিশ্বরোডের পাশে জায়গা কিনে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেন। তার কাছে এতিমখানা ও মাদ্রাসা আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে,হিসাব না দিয়ে সে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কমপক্ষে ১০০ জন, হাফেজ মোক্তার আহমেদ এর দুর্নীতির বিচার চেয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক বরাবর একটি দরখাস্ত করেন।
হাফেজ মোক্তার আহমেদ এর কাছে মুঠোফোনে আলাপকালে দুর্নীতির কথা জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
