নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে রাস্তা চলাচলে ভোগান্তি
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত : ০২:৩৩ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০২০ মঙ্গলবার
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্ত কাজ। সৈয়দপুর উপজেলার ওয়াপদা মোড় থেকে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের উন্নয়ন কাজের প্রথম দফার সময়ের মেয়াদ শেষে আবার সময় বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় মেয়াদের সময় বাকি আছে আর নয় মাস। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী দুই দফা মেয়াদে উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের প্রতিনিধি মো. কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,“আমরা জমি মালিকদের বুঝিয়ে তাদের জায়গায় কাজ শুরু করেছিলাম। এখন দীর্ঘ সময়েও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় কাজে বাধা দিচ্ছেন জমি মালিকরা। ফলে গত জুন মাস থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। এমন সমস্যায় একটি অংশের ঠিকাদার নাভানা বিল্ডার্স চুক্তি বাতিল করে চলে গেছেন। দ্রুত সমাধান না হলে আমাদেরকেও কাজ ছেড়ে চলে যেতে হবে।
এদিকে জমি ও স্থাপনার মালিকরা বলছেন, গত দুই বছরেও অধিগ্রহণ করা জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি তাঁরা। এ কারণে তাঁদের জায়গায় কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন। এর আগে তাঁরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে বেশ কয়েকবার সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবি করছে, জমি অধিগ্রহণের চারটি অংশের মধ্যে তিনটি অংশের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। অপরদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রস্তাবনা তৈরিতে কিছু ত্রুটি রয়েছে, যেগুলো সংশোধনে সময় লাগছে।
নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের জন্য নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি চারটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিনটি অংশের বিপরীতে জেলা প্রশাসনকে ২৫৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। একটি অংশের প্রাক্কলন এখনো পাইনি। সেটি পেলে তাদের চাহিদামতো টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন একটি অংশের অধিগ্রহণ নিষ্পত্তি করে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছে। ওই অংশের কাজও শেষ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারনে এরই মধ্যে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাভানা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চিঠি দেয়। আমরা গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের চুক্তিপত্র বাতিল করে ওই অংশে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করেছি।
জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন,“অধিগ্রহণের কাজটি শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে নতুন গেজেট হলে নতুন আইন ধরে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার চুড়ান্ত প্রাক্কলন করা হয়। এনিয়ে প্রকল্পের শুরু থেকে একটি জটিলতা শুরু হয়েছিল। এই জটিলতায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চলে গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যে এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ‘রিভাইজড পিপি’ হয়ে টাকাটা আমাদের কাছে এসেছে। এরপর যখন আমরা জনগণকে এ ক্ষতিপূরণ দেব তখন দেখা গেল এটি প্রস্তুতের সময় প্রস্তাবনায় কিছু ভুলক্রটি রয়ে গেছে। আইনে বলা আছে, ভুল যখনই জেলা প্রশাসকের গোচরীভূত হবে, তখনই সংশোধন করে চেক প্রদান করতে হবে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, প্রত্যাশী সংস্থা, গণপূর্ত বিভাগ ও বনবিভাগকে যুক্ত করে কাজ করছি আমরা এবংসে অনুযায়ী আমরা আগাচ্ছি। ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেছি। সব পেলে এ বছরেই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরো বলেন, ওই সড়কের জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণে চারটি ভাগ করা হয়েছে; যার মধ্যে একটি অংশের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে একটি অংশের মাঠ বই তৈরি করা যাচ্ছে না।
