শরীয়তপুরে মেয়েকে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় পিতাকে কুপিয়ে জখম
নুরুজ্জামান শেখ ,শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৪৮ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার
নুরুজ্জামান শেখ ,শরীয়তপুর প্রতিনিধি।
শরীয়তপুরে মেয়েকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পিতা আব্দুল মালেক বয়স (৪৫) কে স্থানীয় প্রতিবেশী কতিপয় বখাটে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মালেক গণমাধ্যমকর্মীকে জানান আমার বড় মেয়ে হাসিনা বেগম(২৫) এক সন্তানের মা গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল পাঁচটার সময় মাদারীপুর শশুর বাড়ি থেকে নাতিকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসার পথে আমারই প্রতিবেশী রেজাউল আকন(৩২) পিতা মজিবর আকন, এন্টি আকন (২৫) পিতা মৃত খলিল আকন , এনায়েত আকন (১৮) পিতা বারেক আকন উভয় গ্রাম টুমচর এই তিনজন মিলে আমার মেয়েকে খারাপ ভাষায় কথা বলে এবং কুপ্রস্তাব দেয় এক কথায় বলতে গেলে ইভটিজিং বা উত্যক্ত করে। বিষয়টি আমার মেয়ে হাসিনা বেগম আমাকে জানালে আমি পরের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ওই তিনজন বখাটের পিতা-মাতার কাছে বিষয়টি জানাতে গেলে উল্টো রেগে ওই তিনজনসহ মজিবর আকন (৬০), বারেক আকন (৪৫), সায়েদ আকন (৪০), আকুব আলী আকন (৪৫), আয়নাল আকন (৪৫)-আমাকে এবং আমার মেয়ের উপর অতর্কিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা এবং মাছ মারার টেঠা দিয়ে কোপ দিলে, আমি বাঁচার জন্য চিৎকার করলে আমার বড় ভাই আবু বক্কর আমাকে বাঁচাতে আসলে ওই ৮ জন আমার বড় ভাই সহ আমাদের উপর হামলা করে। মামলায় এজাহারভুক্ত ২ নং আসামী বারেক আকন মাছমারা টেঠা দিয়ে আমার বাম হাতের উপর জোরে কোপ দেয় এবং আমার হাত থেকে টেঠা ছোটানোর জন্য জোরে টান দিলে আমার বাম হাতটি ভেঙ্গে যায়। আমি এবং আমার বড় ভাই আমার মেয়ে বাঁচার জন্য চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আব্দুল মালেক সিকদারের ছোট মেয়ে তানিয়া আক্তার (১৮)গণমাধ্যমকে জানান ওই বখাটে সন্ত্রাসীরা আমার বোনের পরনের কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং আমার বোনের কাছ থেকে জোরপূর্বক গলার চেইন এবং একজোড়া কানের দুল ও আমার বাবার নিকট থাকা ১৫০০০/হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল মালেক সিকদারের ছোট মেয়ে তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১২ টার দিকে অপরাধীদেরকে আসামি করে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার এজাহারভুক্ত ৮জন আসামির ভেতর ৭ জন জামিনে বাহিরে আছে এবং জায়েদ আকন নামে অপর আসামি জেলহাজতে আছে।
