মোঃ নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ১২ ঘন্টা আগে, ০৫:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ফ্রান্স, নেপাল, বাংলাদেশের নাম কেন টানা হচ্ছে ভারতের আন্দোলনে

ভারতে তরুণদের আন্দোলনকে নেপাল ও বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না বলে দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

কারাবন্দি সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে কথা বলেছেন দীপক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের শান্ত ও শান্তিপূর্ণ আচরণ কোনো সহিংস প্রতিবাদ নয়, বরং এটি গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মতো। বাইরের দেশের ঘটনাগুলোর দিকে না তাকিয়ে ভারতের বিক্ষোভকারীদের অহিংস মনোভাবের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দীপক বলেন, যাঁরা ক্রমাগত আঙুল তুলে বলছেন, ফ্রান্সে কী ঘটছে তা দেখুন, তাঁদের একটু লজ্জিত হওয়া উচিত এবং ভারতের দিকে তাকানো উচিত। তাঁর ভাষ্য, ভারতে সৌরভ দাস ও আশুতোষ মুখে হাসি নিয়ে জেলে গেছেন। অন্যান্য জায়গায় যা ঘটছে, তাঁরা তেমন কিছুই করেননি। তাঁদের বেআইনিভাবে কারাবন্দি করা হচ্ছে, এ কথা জেনেও তাঁরা শান্তি ও সম্প্রীতির পথ বেছে নিয়েছেন। মনে রাগ বা ঘৃণা না পুষে হাসিমুখে কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

দীপক বলেন, ‘মানুষ নেপাল বা বাংলাদেশের কথা বলে; কিন্তু আমাদের সহযোদ্ধাদের দিকে তাকান। তারা কারও উসকানিতে পা না দিয়ে হাসিমুখে জেলে গেছেন। তারা গান্ধীর আদর্শ বুকে ধারণ করে চলেছেন—তারা জেলে যাওয়ার পথেও হেসেছেন, আবার আদালতকক্ষের ভেতরেও হেসেছেন। আপনারা তাদের মধ্যে ঘৃণা ঢোকাতে পারবেন না; ঘৃণা আসলে আপনাদের ভেতরেই আছে। আর সবাই পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে, আপনাদের এই ঘৃণা আজ দেশটিকে কোন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনকারীদের কারাবরণ কোনো বিশৃঙ্খল অভ্যুত্থানের চেষ্টা নয়, বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একধরনের নৈতিক জাগরণ। দীপক বলেন, ‘সরাসরি কোনো তুলনা না টেনেই বলা যায়, মহাত্মা গান্ধী যা করেছিলেন এটি তারই প্রতিফলন। যখন তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল, তিনি নীরবে চলে গিয়েছিলেন। কারণ, ওটা ছিল তার সত্যাগ্রহ। আশুতোষ ও সৌরভ ঠিক একই সত্যাগ্রহ পালন করছেন। কারাগারের ভেতরে সেই কষ্ট সহ্য করে তারা এই দেশের বিবেককে জাগিয়ে তুলছেন। তাদের মুক্তির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।’

ভারতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। এই বিক্ষোভকে ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের সহিংস নাগরিক অস্থিরতার সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা তীব্রভাবে নাকচ করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, সাংবিধানিক এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পরিচালিত বলে বর্ণনা করেছে।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি অভিযোগের পরই কংগ্রেস এই কড়া জবাব দেয়। বিজেপির অভিযোগ ছিল, ‘ভারতবিরোধী একটি চক্র’ বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মতোই ভারতে ‘সরকার পরিবর্তনের’ জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।

সূত্র: এএনআই, দ্য নিউজ মিল

মন্তব্য করুন