প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বার, ২০২৬, ১১:২৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন দফায় বিমান ও ড্রোন হামলায় শিশু এবং চিকিৎসাকর্মীসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভূমধ্যসাগরীয় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিহ প্রদেশের কফর রেমান শহরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে সরাসরি বোমাবর্ষণ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হন। এছাড়া একই শহরের একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন প্যারামেডিক (চিকিৎসাকর্মী) প্রাণ হারান বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
লেবানন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মোট ২৭ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। এর আগে রোববার নাবাতিহ জেলার আরব সালিম শহরে চালানো বিমান হামলায় সাতজন নিহত ও ২০ জন আহত হন।
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের দেইর আল-জাহরানি এলাকার একটি ভবনে তারা সফলভাবে হামলা চালিয়েছে, যা হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত ছিল। তারা আরও দাবি করে, হামলার আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সীমান্তে সংঘাত কমানো ও 'পাইলট জোন' তৈরির মাধ্যমে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা থাকলেও, বাস্তবে তা থমকে গেছে। ইসরায়েল এখনো লেবাননের কয়েকটি গ্রাম দখল করে রেখেছে এবং সেনা সরাতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৪,৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১৩৫ জন চিকিৎসাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
মন্তব্য করুন