প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আনজার শাহ। এ সময় নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পরও ডাঃ নাহিদ হোসাইন তাঁর সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ না করে চরম অসদাচরণ করেন এবং তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা বিষয়টি মৌখিক ও লিখিতভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ আকারে দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আচরণ একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় এবং এটি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার স্পষ্ট পরিপন্থী। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডাঃ নাহিদ হোসাইনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক কৈফিয়ত তলব পত্র প্রেরণ করেন। চিঠিতে ঘটনার বিষয়ে সুস্পষ্ট, বিস্তারিত ও লিখিত ব্যাখ্যা পত্র প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে দপ্তরে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই কৈফিয়ত তলব পত্রের অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং কুমিল্লার সিভিল সার্জন বরাবর পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সিভিল সার্জন সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল গেট ও আশপাশে ভাসমান ডাস্টবিন নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধারাবাহিকতায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের সাথে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সুশীল সমাজ এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের সৌজন্যমূলক ও শালীন আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে অনেকে মনে করছেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে এ ধরনের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লিখিত কৈফিয়ত পর্যালোচনা করবে কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন