আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মোদির সাশ্রয়ী আহ্বানে ভারতের শেয়ারবাজারে ধস, রুপির রেকর্ড পতন

ছবি: এআই

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জ্বালানি সাশ্রয়, আমদানি হ্রাস ও স্বর্ণ কেনা কমানোর আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজার। একই দিনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণে কমেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকুচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত গত মাসের শেষ দিকে জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও তারা আপাতত ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি করবে না।

সোমবার দেশটির প্রধান শেয়ারবাজার এনএসই নিফটি-৫০ সূচক ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮১৫.৮৫ পয়েন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে বিএসই সেনসেক্স সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ বা প্রায় ১ হাজার ২৭৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬ হাজার ১৫.২৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডলারের বিপরীতে রুপির মান শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ পতনের পর দাঁড়ায় ৯৫.৩১ রুপিতে, যা এক দিনের লেনদেনে সর্বোচ্চ দরপতনের রেকর্ড। এর আগে গত ২৭ মার্চ এক দিনে রুপির এমন বড় পতন প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল।

অন্যদিকে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করলে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছায়।

কেজরিওয়াল রিসার্চ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা অরুণ কেজরিওয়াল সোমবারের বাজার পরিস্থিতিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি বিনিয়োগকারীদের একটি ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বাজারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টার পরও তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামছে না। এটি বাজারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে’।

এদিন ভারতের ১৬টি প্রধান খাতের মধ্যে ১৩টিতেই লোকসান পরিলক্ষিত হয়েছে। স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ শেয়ারের দর কমেছে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ করে। তেলের বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল ও এইচপিসিএল-এর শেয়ার মূল্য ২ দশমিক ৩ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বাজার মূলধনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৩ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।

ভ্রমণ-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর মধ্যে ইন্ডিয়ান হোটেলস, লেমন ট্রি, চালেট হোটেলস, টমাস কুক ও যাত্রা অনলাইনের দাম ১ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শেয়ার দর ৪ দশমিক ৯ শতাংশ নেমে যায়।

সরকারের স্বর্ণ কেনা কমানোর বার্তায় জুয়েলারি খাতে বড় ধস নেমেছে। টাইটান, সেনকো গোল্ড ও কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ারের দাম ৬ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। প্রত্যাশিত মুনাফা ব্যাহত হওয়ায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শেয়ার দর ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেছে, যার জেরে সরকারি ব্যাংক সূচক কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে মন্দার এ বাজারেও হুন্দাই মোটর ইন্ডিয়ার শেয়ার দর ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ত্রৈমাসিক মুনাফা বৃদ্ধির খবরে কৃষি-রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান ইউপিএল-এর শেয়ার দরও বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

মন্তব্য করুন