প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশকে অসাংবিধানিক এবং নারীর প্রতি চরম বৈষম্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের বেঞ্চের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সংক্ষিপ্ত আকারে এ রায় ঘোষণা করেছিলেন আদালত।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নিছক অনৈতিক চর্চাই নয়, এটি কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে সামাজিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে। একই সঙ্গে এটি নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার চরম লঙ্ঘন। রায়ে স্পষ্ট করে বলা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
আদালত আরও বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। কেবল একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না—বাস্তব প্রয়োগ, ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইনের মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বড় নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। দেশের সব নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সেখানে সংরক্ষণ ও তদারকির আওতায় আনতে হবে। আদালত এই নির্দেশনাকে ‘কন্টিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এর বাস্তবায়ন আদালত নিজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। আদালতে তাঁর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ইশরাত হাসান নিজেই, সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।
মন্তব্য করুন