বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯   ১২ মুহররম ১৪৪৪

উত্তরে আশাবাদী আতিক, দক্ষিণে আসতে পারে পরিবর্তন

তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত : ১২:৫৩ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার

 

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণার পরপরই সংশ্লিষ্টদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। কারা প্রার্থী হচ্ছেন, এ নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে উভয় দলে। এ নিয়ে সর্বত্রই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। উত্তর সিটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব একটা নেই; বরং দক্ষিণে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। ঘোষণার পরপরই নেতাকর্মীদের মধ্যে সিটি নির্বাচনের একটা আমেজও বিরাজ করছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুসারে দুই সিটির নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পরপরই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ছবিসহ পোস্টারে ছেয়ে গেছে ঢাকা শহর।

দলের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন প্রার্থীরা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুই সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ ডিসেম্বর থেকে ফরম বিতরণ শুরু হয়ে চলবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। দলটি ২৭ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় যাচাই-বাছাই করে দুই সিটির চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ।

এর পর থেকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত বেড়েছে। রাজনীতিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমানে দায়িত্ব পালনকারী দুই মেয়রই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন।

ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। মেয়র নিজেও আশাবাদী এবারের মনোনয়ন নিয়ে।

বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি নির্বাচন করব। আমি অল্প সময় পেয়েছি। আবারও নির্বাচিত হলে পারলে শহরের যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন নিয়ে কাজ করব। নিজের বাকি পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব।’

তবে স্বল্প সময়ে চোখে পড়ার মতো কিছু করতে পারেননি আতিকুল ইসলাম। ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক অসমাপ্ত যেসব কাজ রেখে গেছেন, সেগুলোও এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আতিকুল ইসলাম ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহ ও ফয়সাল আহসান।

তবে দক্ষিণ সিটিতে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকটাই মাইনাসে রয়েছেন সাঈদ খোকন। কমিশন-বাণিজ্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে আওয়ামী লীগে গ্রুপিং তৈরিসহ নানা অভিযোগের কারণে বিভিন্ন সময়ে নেতিবাচক সংবাদের শিরোনামও হয়েছেন তিনি। মনোনয়ন ইস্যুতে তাই আলোচনায় উঠে আসে ঢাকা-১০ আসনের সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজন সূত্র বলছে, সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু। তিনি সদ্য ঘোষিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আরো রয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি আবু আহম্মেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। আমার বিশ্বাস, আমি দলের মনোনয়ন পাব। সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। যানজটমুক্ত সুন্দর একটি নগর তৈরিতে যা কিছু প্রয়োজন, আমি তা-ই করব। শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, পার্কগুলো দখলমুক্ত, নগর নাগরিকদের মৌলিক চাহিদাগুলো সহজতর করাই আমার মূল লক্ষ্য।’

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর এবং মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি। আর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের দুই সিটিতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।