পদত্যাগ করবেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
তরুণ কণ্ঠ অনলাইন
প্রকাশিত : ০৮:৫৭ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগ্রহীত
ডাউনিং স্ট্রিটের অন্দরমহল এখন একদিকে বিতর্কের আগুনে তপ্ত, অন্যদিকে সংহতির দেয়ালে ঘেরা। লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে বিতর্কিত ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার পরিচালনার জন্য তার যে বৈধ ম্যান্ডেট রয়েছে, তা বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ হয়নি।
চাপের মুখে স্টারমার যখন পদত্যাগের দাবি নাকচ করছেন, তখন তার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যরা। চ্যান্সেলর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি তাদের অবিচল আস্থার কথা জানান। তারা কনজারভেটিভ পার্টির কঠোর সমালোচনা করে এই পদত্যাগের দাবিকে কেবল একটি ‘রাজনৈতিক চাল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই সংহতি স্টারমারের জন্য বড় রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ ফাটলই সাধারণত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সরকার যখন বিষয়টিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায় হিসেবে দেখছে, তখন বিরোধী দলগুলো ভিন্ন সুর চড়াচ্ছে। বিভিন্ন বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী ও কনজারভেটিভ পার্টি এই পরিস্থিতিকে ‘জনসাধারণের আস্থার সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ম্যান্ডেলসনের ভূমিকা নিয়ে সরকারকে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। এবং সরকার যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে স্টারমারকে বিদায় নিতে হবে।
ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়িতে সময় নষ্ট না করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোতে মনোযোগ দিতে চান। তাদের যুক্তি, কারও অতীতের ব্যক্তিগত সম্পর্কের দায়ভার বর্তমান প্রশাসনের ওপর চাপানো অযৌক্তিক এবং অনভিপ্রেত।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, স্টারমার সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিলেও এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য যদি সামনে আসে, তবে তার স্থিতিশীলতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
