বুধবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   মাঘ ২২ ১৪৩২   ১৬ শা'বান ১৪৪৭

এআই চ্যাটবটের পরামর্শ প্রশ্ন ছাড়াই মানছেন ব্যবহারকারীরা

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত : ০১:১৪ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবটের দেওয়া পরামর্শ ব্যবহারকারীরা ক্রমেই প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণ করছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের বিচারবোধ ও অন্তর্দৃষ্টিকে উপেক্ষা করার প্রবণতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক ও কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণায় বাস্তব জীবনে লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা কীভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে, তা–ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় ‘ডিসএমপাওয়ারমেন্ট’ বা ক্ষমতাহীনতা বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের স্বাধীন মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এআইয়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীর চিন্তা ও আচরণে বিভিন্নভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাস্তবতানির্ভর তথ্য বিকৃতি। যেখানে ভিত্তিহীন বা যাচাইযোগ্য নয় এমন তথ্যকেও সত্য হিসেবে সমর্থন করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা একটি নিয়ন্ত্রণমূলক বা প্রতারণামূলক সম্পর্কে রয়েছেন বলেও বোঝানো সম্ভব হয়। এ ছাড়া আচরণগত বিকৃতির ঘটনাও দেখা গেছে, যেখানে ব্যবহারকারীকে তার নিজস্ব মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে এআই।

অ্যানথ্রপিক তাদের ক্লড চ্যাটবটের প্রায় ১৫ লাখ কথোপকথনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, প্রতি এক হাজার ৩০০টি কথোপকথনের মধ্যে একটিতে বাস্তবতাহীন তথ্য বিকৃতি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে প্রতি ছয় হাজার কথোপকথনের মধ্যে একটিতে আচরণগত বিকৃতির ইঙ্গিত মিলেছে। সংখ্যাগত দিক থেকে এই হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও, এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের মোট সংখ্যা বিবেচনা করলে বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক। এক ব্লগ বার্তায় অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এআইয়ের ব্যবহার যেহেতু ব্যাপক ও নিয়মিত হয়ে উঠছে, বর্তমানে ঝুঁকির হার কম হলেও এর প্রভাব পড়তে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষের ওপর।

গবেষণার তথ্যমতে, যখন ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত ও আবেগঘন বিষয়ে বারবার চ্যাটবটের পরামর্শ নেন তখনই সাধারণত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথন হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে এসব কথোপকথন সহায়ক মনে হলেও, পরে সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার পর অনেকেই অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তবে ব্যবহারকারীদের ওপর চ্যাটবটের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে শুধু এআই নয়, ব্যবহারকারীর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ব্যবহারকারীরাই চ্যাটবটকে অতিরিক্ত কর্তৃত্ব প্রদান করেন এবং প্রশ্নাতীতভাবে পরামর্শ গ্রহণ করেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করে তোলে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই চ্যাটবটের অত্যধিক নির্ভরতা ব্যবহারকারীদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসকে কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, কিন্তু সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ব্যবহারকারীর হাতেই থাকা দরকার।

এই প্রবণতা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে মানুষের চিন্তাশক্তি ও স্বাধীন বিচারবোধের ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।