রোববার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ১০ ১৪২৯   ২৮ সফর ১৪৪৪

খারাপ কাজের দিকে ডাকার পরিণতি

ইসলাম ডেস্ক

প্রকাশিত : ০৬:১৮ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ শনিবার

দুনিয়াতে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা সরাসরি অশ্লীলতা ও জঘন্য খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত; কোরআনের ঘোষণায় তারা জাহান্নামের কঠিন আজাব ভোগ করবে। কিন্তু যারা অশ্লীলতা কিংবা খারাপ কাজের দিকে আহ্বান করে তাদের পরিণতি কী হবে? আবার এসব খারাপ কাজ থেকে বাঁচতে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই বা কী নির্দেশনা দিয়েছেন?

নিজে অশ্লীলতা বা খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকা কিংবা কাউকে খারাপ কাজের দিকে আহ্বান করা; উভয়টিই সমান অপরাধ। আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়ের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-


اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ

‘নিশ্চয়ই যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।’ (সুরা নুর : আয়াত ১৯)

এ আয়াতে ফাহেশা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আর এর অর্থ হচ্ছে- নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা। আবার কোরআনে জেনা-ব্যভিচারকেও ফাহেশা বা অশ্লীলতা বলে গণ্য করা হয়েছে। শুধু নির্লজ্জতা, ব্যভিচার করাই অশ্লীলতা বা খারাপ কাজ নয় বরং খারাপ কাজ তথা ব্যভিচারের একটি মিথ্যা গুজব ছড়ানোও অশ্লীলতা হিসেবে অভিহিত হবে। আর এর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। আল্লাহ তাআলা এসব খারাপ কাজের জন্য দুনিয়া ও পরকালে কঠিন শাস্তির কথা বলেছেন।

সুতরাং কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী অশ্লীলতা সম্পর্কে ইসলামের ভূমিকা এবং আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার অনুমান করা যেতে পারে যে, কেবল অশ্লীলতার একটি মিথ্যা খবর প্রচার করা আল্লাহর কাছে এত বড় অপরাধ হয় তাহলে চিন্তা করা যায়! যারা দিন-রাত সমাজে বিভিন্ন মাধ্যমে খারাপ খবর কিংবা মিথ্যা খবর প্রচার করে বেড়ায় আবার গুনাহের কাজে দিকে আহ্বান করে তারা আল্লাহর কাছে কত বড় অপরাধী?


সুতরাং যেসব মাধ্যমে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে খারাপ কাজ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা ছড়ায় এসবও এ আয়াতের নির্দেশনা ও পরিণামের অন্তর্ভূক্ত। তা হোক খবরের কাজ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, রেডিও-টিভি কিংবা সিনেমা। খারাপ কথা ও কাজ যেভাবেই প্রচার হোক না কেন; যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের জন্যই জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বিভিন্ন ডিভাইসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। অন্যায় ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার মতো খবর প্রচার-প্রচারণা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ খারাপ কথা-কাজ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার সঙ্গে নিজে জড়িত হওয়া কিংবা এ খবর প্রচার-প্রসারে জড়িত থাকা সমান অপরাধ। আর এ জন্যই দুনিয়া ও পরকালের আল্লাহর কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ থেকে বাঁচার দোয়া

দুনিয়ার সব খারাপ কাজ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করা জরুরি। যেভাবে শিখিয়েছেন স্বয়ং নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা এসেছে-

১. হজরত যিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

২. হজরত আবু আহমাদ শাকাল ইবনু হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল্লাম- আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, তুমি বল-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি সাময়ি, ওয়া মিন বাচারি ওয়া মিন শাররি লিসানি ওয়া মিন শাররি ক্বালবি ওয়া মিন শাররি মানিয়্যি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কানে মন্দ কথা শোনা থেকে আশ্রয় চাই। চোখ দিয়ে মন্দ কিছু দেখা থেকে আশ্রয় চাই। জিহ্বা দিয়ে মন্দ কিছু বলা থেকে আশ্রয় চাই। অন্তরের খারাপ চিন্তা থেকে আশ্রয় চাই। দেহের কামনা-বাসনার খারাপ চিন্তা থেকেও আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ)

মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসে শেখানো এ দোয়াটির মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা ও পর্ণ আসক্তি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। আল্লাহর সাহায্য পেতে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে এ দোয়ার আমল বেশি বেশি করা। আর তাতেই দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা ও পর্ণ আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা ও কাজ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। তা প্রচার-প্রসার করা থেকেও বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।