শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৬ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে “আমার বঙ্গবন্ধু”

মাহির আমির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ০৪:৫০ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২২ সোমবার

(রবিবার) দুপুর আড়টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ্যাপসের উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "আমার বঙ্গবন্ধু" গেমিং এ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মর প্রাথমিক স্কুল, হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের জানতে খুব সহজ হবে। কারণ বর্তমান সময়ে অনেকেই এখন বই পড়তে চায় না। আমাদের সময় বই পড়া ও মুখস্থ বিদ্যার প্রতি একটা জোক ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের যে অবস্থা তারা অল্প সময়ে অনেকে বেশি বেশি জানতে চায় এবং জানেও তারা বেশি। এখন তাদের মেধাও অনেক প্রখর তাই এই গেমিং এ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই সবাই বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারবে।

 

এ ছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাহিদুল ইসলামসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় এবং বিএনসিসি সদর দপ্তরের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

এসময় বিএনসিসি মহাপরিচালক বলেন, "আমার বঙ্গবন্ধু" অ্যাপ এর মাধ্যমে দেশে বিদেশে সকল বয়সের মানুষের নিকট বঙ্গবন্ধুর জীবনী ডিজিটাল প্লার্টফর্মে সহজ ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে । এই গেমিং অ্যাপটি ব্যবহারে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, আদর্শ এবং নেতৃতের গুনাবলিতে বলীয়ান হওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসী একটি জাতি গঠন করা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।

 

রমনা রেজিমেন্টের রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাহাত নেওয়াজ বলেন, আমার বঙ্গবন্ধু মোবাইল গেমিং অ্যাপটি বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় তৈরী এমন একটি গেম যা খেলে একজন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনী সহজ ভাবে জানতে পারবে এবং বঙ্গবন্ধু আদর্শে দেশপ্রেম তথা নেতৃত্বের গুনাবলিতে উজ্জিবিত হবে। বাংলাদেশ তথা বিশ্বে কোনো ঐতিহাসিক মনীষির জীবনী ডিজিটাল প্লাটফর্মে গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই ।

 

তবে আমি কখনো দেখিনি। আর আমার আশংকা যদি সত্য হয় তাহলে "আমার বঙ্গবন্ধু" মোবাইল অ্যাপটি বিএনসিসি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় তথা বাংলাদেশের জন্য হবে এক অনন্য মাইল ফলক। বিশ্ববাসী জানতে পারবে কিভাবে আমরা আমাদের মহা-নায়ককে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি । হয়তো এই গেমিং অ্যাপটি বিশ্ববাসীর নিকট অনুকরনীয় একটি উদাহরন হবে। এজন্য আমাদেরকে ব্যাপক প্রচার- প্রচারনার মাধ্যমে অ্যাপটিকে জনপ্রিয় করে তোলা পদক্ষেপ নিতে হবে। "আমার বঙ্গবন্ধু" গেমিং অ্যাপটির মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যেমন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জিবীত হবে তেমনি প্রতিটি ধাপ শেষে বঙ্গবন্ধুর মহান উক্তি “দাবায় রাখতে পারবা না” বাক্যটি ব্যবহার করায় সে মানষিকভাবেও আত্মবিশ্বাসি হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং দিন শেষে আমরা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর একটি জাতিতে পরিনত হবো বলে আশা করি।

 

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর  অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ জীবনী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ডিজিটাল প্লাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাংলা এবং ইংরেজিতে তৈরী করা হয়েছে অ্যাপ ভিত্তিক গেম “আমার বঙ্গবন্ধু”। গেমটি সবার নিকট ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণলয় সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে। সর্বপ্রথমে এন্ড্রয়েড গেমিং অ্যাপ "আমার বঙ্গবন্ধু ” ডাউনলোড করে মোবাইলে ইন্সটল করতে হবে। ইন্সটল করে গেমসটি চালু করার পরে ইন্টারফেস আসবে। যেখানে একজন প্রতিযোগীকে ব্যাক্তিগত তথ্য প্রদান করে তালিকাভূক্ত হতে হবে। গেমসটি খেলাকালীন দুটি সময় গণনা করার মাধ্যমে বিজয়ী নির্ণয় করা হবে। সেইক্ষেত্রে এই সময় গননা একটি ডাটাবেস সার্ভারে জমা হবে এবং সেখান থেকে ওয়েব ইন্টারফেস এর মাধ্যমে তা জানা যাবে। অতঃপর বিভিন্ন পর্যায়ে খেলে সফল প্রতিযোগীরা জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার লাভে সক্ষম হবে।

 

“আমার বঙ্গবন্ধু গেমিং এ্যাপস” শীর্ষক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত প্রতিযোগিতায় বয়সের ক্রমানুসারে সাজানো প্রথম গ্রুপ অনুর্ধ ১০ বছর, দ্বিতীয় গ্রুপ ১০-১৮ বছর এবং তৃতীয় গ্রুপ ১৮ তধুর্ধ অংশগ্রহণকরীদের মধ্য হতে বিজয়ীদের জন্য পুরষ্কার হিসেবে থাকবে বই , স্মার্ট ফোন , ট্যাব ও ল্যাপটপ। ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতটিতে ২৬ মার্চ রাত ১২ টা পর্যন্ত অংশগ্রহণ করা যাবে। একজন প্রতিযোগী একাধীক বার অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং প্রতিবার অংশ নেয়ার পর সার্ভারে তা আপডেট করা হবে। প্রতি ক্যাটাগরি/বয়সের প্রতিযোগীদের মধ্য হতে ১০ জন করে সর্বোমোট ৩০ জন বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।

 

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক/প্রতিনিধি ছাড়াও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এর প্রতিনিধি, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং জেলার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে জুম কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে সরাসরি অংশ গ্রহণ করেন।