প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৬: বিএনপি সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ঘাটতি ও ঋণনির্ভর হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। একই সাথে তিনি এই বাজেটকে ‘সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা এবং বাস্তবায়নের এক কঠিন পরীক্ষা’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে বাজেট-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাপা চেয়ারম্যান দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘কঠিন সময়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সংকটকাল মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকারকে বাজেটে জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের জন্য বিশাল প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতির বিপরীতে রাজস্বের ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল।
বাজেটের প্রধান দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তিনি বলেন:
রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা: আয়ের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য উৎসের অভাব।
বড় ঘাটতি ও ঋণনির্ভরতা: বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।
পরিকল্পনার অস্পষ্টতা: বড় অংকের এই বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার রূপরেখায় স্বচ্ছতার অভাব।
তবে ত্রুটি-বিচ্যুতির পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি এই বাজেটকে বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমুখী একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সার্বিক বিবেচনায় এই বাজেট জনগণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে। তবে সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করবে সরকারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে বলেন, এর জন্য সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এসব মৌলিক বিষয় সুরক্ষিত না হলে সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়নই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক, জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শফিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বাজেটের এই প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট অংশ বা শিরোনামে আরও পরিবর্তন আনতে চাইলে জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন