তরুণ কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে, ০৭:২২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রি করেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

র রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বের অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের মিল নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব পর্যন্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিলেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। “জনগণের ওপর যত পারো অত্যাচার করো, যত পারো রক্ত ঝরাও—তাতে তার কিছু যায় আসে না,”—এমন মানসিকতা থেকেই তিনি দেশ পরিচালনা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী মতের কোনো স্থান ছিল না। শিক্ষক ও ভিন্নমতাবলম্বীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি আসিফ নজরুলের চেম্বারে ভাঙচুর এবং বিভিন্ন শিক্ষকের চাকরি হারানোর ঘটনাও উল্লেখ করেন।

রিজভীর ভাষ্য, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” তিনি সতর্ক করে বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ অন্য কোনো পথ ধরে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে দলীয়করণ ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাত লুটপাট ও রাজকোষ শূন্য করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শিক্ষা খাতের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গত ১৭ বছরে প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং মেধা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। “যে শিক্ষার্থী খাতায় কিছু লেখেনি, তাকেও পাস করানো হয়েছে”—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এতে আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন