বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
সর্বশেষ:
তোপের মুখে বন্ধ হলো সৌদির ‘হালাল নাইটক্লাব’ দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি হবে লাকসাম রামেকে ভুল চিকিৎসায় নার্সের মৃত্যু জামিন নাকচ, কারাগারে মোয়াজ্জেম দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল সংসদে আবারও রুমিনের উত্তাপ
১৪৪

৪ ঘণ্টায় ঢাকা-সিলেট!

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০১৯  

আখাউড়া-সিলেট মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজ হচ্ছে। এজন্য ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর’ নামে প্রকল্প হাতে নিচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে লাগবে ৪ ঘণ্টা। মঙ্গলবার এ প্রকল্পটিসহ ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্বই শুধু কমবে না। সিলেট থেকে চট্টগ্রামের দূরত্বও কমবে ৪ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডাবল লাইন আগে থেকেই আছে। এছাড়া ডুয়েলগেজের কাজও শুরু হয়েছে। বর্তমানে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টা। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর লাগবে ৬ ঘণ্টা। সূত্র বলছে, বর্তমানে আখাউড়া-সিলেট রেললাইনটি জরাজীর্ণ।

ট্র্যাক স্ট্রাকচার, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আঁকাবাঁকা পথ ও অপারেশনাল জটিলতার কারণে এই পথে ট্রেনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫-৫০ কিলোমিটার। পথটি ডুয়েলগেজ করা হলে ঘণ্টায় ১২০ কিমি বেগে চলতে পারবে। ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে চালু ১৩ জোড়া ট্রেনের স্থলে ২৬ জোড়া ট্রেন চলতে পারবে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।

পরিকল্পনা সচিব মো. নুরুল আমিন রোববার যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবারের একনেক বৈঠকে এটি উঠতে পারে। এরই মধ্যে একনেকের জন্য যে নোটিশ জারি করা হয়েছে, সেখানে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, রেলপথটি ডুয়েলগেজ হলে আসা-যাওয়ার সময় কমে আসবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা এবং চীন সরকারের ঋণ থেকে আসবে বাকি ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ রেলওয়ে চলতি বছরই কাজ শুরু করবে। শেষ হবে ২০২৫ সালের জুনে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণকাজ শেষ হলে এই রুটে কনটেইনার পরিবহনে গতি আসাসহ অনেক সীমাবদ্ধতাই কেটে যাবে। ফলে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফ্রেইট ও বিজি কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- সিলেট স্টেশনটি আধুনিক স্টেশনে রূপ দেয়। অন্য স্টেশনগুলোয়ও আধুনিকতার ছাপ থাকবে। কাজ শেষ হলে ইঞ্জিন বদল না করেই ট্রেনগুলো এই পথে বিরতিহীনভাবে চলতে পারবে। সব জায়গায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হবে। তাছাড়া রেলপথে যেসব পাহাড় রয়েছে সেগুলো যাতে ধসে না পড়ে, সেজন্য রিটেইনিং ওয়াল দেয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ২৩৯ দশমিক ১৪ কিলোমিটার ট্র্যাক নির্মাণ, ৪৯টি মেজর এবং ২৩৭টি মাইনর সেতু নির্মাণ, ২২টি স্টেশনে সিগন্যালিং কাজ, ১৬ হাজার ৬৯০ বর্গমিটার আবাসিক ভবন, ব্যারাক ও ডরমিটরি নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কার্য বাস্তবায়ন করা হবে। একনেকে উঠতে যাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ, মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়ক বাঁক সরলীকরণসহ সম্প্রসারণ এবং খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন এবং অডিটরিয়াম নির্মাণ। শিল্প ও শক্তি বিভাগের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং ঢাকার ডেমরায় বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপন প্রকল্প। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের বিসিএসআইআর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ এবং ইনডোর ফার্মিং গবেষণা সংক্রান্ত সুবিধাদি স্থাপন প্রকল্প। কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ঘুঘুমারি থেকে ফুলুয়ারচর ঘাট ও রাজিবপুর উপজেলা সদর (মেম্বার পাড়া) থেকে মোহনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন হতে বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্প।

এই বিভাগের আরো খবর