বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৫৭

২ হাজার ৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি ঘোষণা

তানভীর মুজাহিদ

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০১৯  


শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে আবাসিক স্কুল তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন ২৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির তালিকা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, নীতিমালার নির্দেশনা ও চাহিদা পূরণ করতে পারা ২৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে এখন না পড়ালেও টাকা পাওয়া যাবে শিক্ষকদের এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। কারণ শিক্ষার মান ধরে রাখতে না পারলে এমপিওভুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হবে। সবাইকে সেটা মনে রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোথায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে, কীভাবে শিক্ষাকে নিয়োগ হবে সেই পরিকল্পনা করেছি আমরা। এখন যত্রতত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। কিন্তু সবগুলোর মান ভালো নয়। স্কুলগুলো যাতে তাদের মান ঠিক রাখে তাই আমরা নীতিমালা তৈরি করেছি। এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলনও করেছেন। আমরা বলেছিলাম সবই করবো। আমরা সব করেছিও।

তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় মাইলের পর মাইল হেঁটে হেঁটে একটা স্কুলে যেতে হয়। তাই ওইসব অঞ্চলের নীতিমালর ক্ষেত্র বিশিষে শিথিল করে দেয়া হয়, যাতে সেখানকার ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করার সুযোগ পায়। তাই আমার আরেকটা নির্দেশ আছে, ওইসব এলাকায় আমরা আবাসিক স্কুল করে দিতে চাই।
 
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, যেহেতু আমরা দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করতে চাই, তাই শিক্ষাকে আমরা সবসময় গুরুত্ব দিই। আমরা মনে করি, একটি শিক্ষিত জাতিই পারে দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করতে। তাই শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি দিয়েছি। স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দিচ্ছি, যাতে আধুনিক শিক্ষা থেকে ছেলেমেয়েরা বঞ্চিত না হয়। অনলাইনে অনেকে চাকরি করতে পারছে। আমরা সেভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। কওমি মাদ্রাসাগুলোতেও সনদের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সনদ না থাকাতে তারা কাজ পেতো না।  প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তারাও এদেশের সন্তান, তাদের কথাও চিন্তা করতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, শিক্ষার একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে যদি আমরা মানসম্মত এবং ভালো শিক্ষা দিতে না পারি, তবে আমাদের দেশ ও জাতি ভালোভাবে গড়ে উঠবে না। নীতিমালা করা এবং সে অনুযায়ী স্কুলগুলোর যাচাই-বাছাই করতে কিছু সময় লেগেছে। যাচাই-বাছাই করে আমরা দুই হাজার ৭৩০ প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছি। আগামী দিনে যারা এমপিওভুক্ত হতে চান তাদের অবশ্যই নীতিমালার নির্দেশনা পূরণ করতে হবে।

জানা যায়, এমপিওভুক্তির নতুন তালিকায় রয়েছে এক হাজার ৬৫১টি স্কুল ও কলেজ, ৫৫৭টি মাদ্রাসা এবং ৫২২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৬৮০টি স্কুল-কলেজ সম্পূর্ণ নতুন এবং প্রতিষ্ঠানের নতুন স্তর এমপিওভুক্ত হচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯৭১টি।

নতুন এমপিওভুক্তির মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৩৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৪৬টি, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২টি এবং কলেজ ৯৩টি। আর স্তর পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮৪৯টি, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৬৬টি এবং কলেজ ৫৬টি।

নতুন এমপিওভুক্তির তালিকায় রয়েছে ৩৫৯টি দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানের নতুন স্তর এমপিওভুক্ত হচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলিম ১২৭টি, ফাজিল ৪২টি ও কামিল ২৯টি। কারিগরির সব প্রতিষ্ঠানই নতুন এমপিওভুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কৃষি ৬২টি, ভোকেশনাল স্বতন্ত্র ৪৮টি, ভোকেশনাল সংযুক্ত ১২৯টি, বিএম স্বতন্ত্র ১৭৫টি ও বিএম সংযুক্ত ১০৮টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, গতবারের চেয়ে এবারের এমপিওভুক্তির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। এই এমপিওভুক্তি কার্যকর হবে গত জুলাই মাস থেকে। পাহাড়ি অঞ্চলসহ সব উপজলা থেকেই এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, এবার নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তা হলো, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে তাদের এমপিও সাময়িক স্থগিত হবে। তবে পুনরায় যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে আবারও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে।

এই বিভাগের আরো খবর