শুক্রবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২৩   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪৩০   ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৪৯

সিডনিতে জাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বাৎসরিক বনভোজন

তরুণ কণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২৩  

পরিযায়ী পাখির মতো আমরা ফিরে ফিরে আসি আমাদের অভয়াশ্রমে। জন্মাতে চাই অতীত সময়ের গর্ভে, ২য় জন্মের আঁতুড়ঘরে–জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিযায়ী পাখির ন্যায় শনিবার (১১ নভেম্বর) অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী উড়ে এসেছিল ওয়েস্টার্ন সিডনীতে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করে দিনভর বনভোজনের আড়ালে এই মিলনমেলায় অংশ নিয়েছিল সিডনী, ক্যানবেরা, মেলবোর্ন নিউক্যাসেল, ওলুংগংসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বসবাসরত সাবেক শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এই বাৎসরিক বনভোজনের আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় বনভোজন ওয়েস্টার্ন সিডনির ফেয়ারফিল্ড কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণাধীন পার্কল্যান্ড অঙ্গন অ্যালামনাইদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শুরুতেই পরিবেশন করা হয় মোঘলাই প্রাতরাশ ও মালাই চা। একে একে অনুষ্ঠিত হয় বাচ্চাদের লজেন্স দৌড়, মহিলাদের পিলো পাসিং এবং পুরুষদের বেলুন পপিং গেম।

সকাল ১১টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রাসেল ইকবাল এবং প্রত্যাশা ইকবালের তত্ত্বাবধানে পার্কল্যান্ড প্রাঙ্গণজুড়ে গড়ে তোলা হয় ডেইরি প্রধান গেট, কেন্দ্রীয় কাফেটেরিয়া, চৌরঙ্গী ও প্রান্তিক গেট। স্মৃতিকাতর সাবেক শিক্ষার্থীদের মনের গভীরে তোলপাড় করা এই আয়োজনে শুরু হয় ছবি তোলার হিড়িক। পরিণত হয় নবীন ও প্রবীণের মিলনমেলায়।

দুপুরে পরিবেশিত হয় মধ্যাহ্নভোজ। ছিল অফুরন্ত শীতল কোমল পানীয়, গরম চা, কেক, রসগোল্লা, ঝালমুড়ির আয়োজন।
আড্ডা পাগল জাবিয়ানদের স্মরণকালের বৃহত্তম এই আউটডোর সমাবেশের কাছে ঘড়ির কাটাও হার মানে। পার্ক কর্তৃপক্ষ যখন মূল গেট বন্ধের উদ্যোগ নেয় তখন সবার সংবেদন হয় ঘরে ফেরার। হলে ফিরে গিয়ে পুনরায় আড্ডায় মেতে ওঠার সুযোগ না থাকায় সবাইকে ফিরে যেতে হয় নিজ গৃহে। যারা অন্য রাজ্য থেকে এসেছিলেন তারা রাত্রিবাস করেন বন্ধুদের বাসায়।

ফিরে যাওয়ার আগে অ্যালামনাইরা আয়োজকদের কাছে শিগগিরই আরেকটি মিলনমেলার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়ে যান।

বনভোজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ১৯তম ব্যাচের তাহমিনা বীনা ও ২২ তম ব্যাচের মিকন মোবশ্বের। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি সাইফ সাকান্দার রাফায়েল, সাবেক আহ্বায়ক ৮ম ব্যাচের খালেদা কায়সার মিনি।

বক্তব্যে খালেদা কায়সার বলেন, সংগঠন যেকোনো উদ্যোগকে সফলতা দান করে। সর্বজনীন করে তোলে। আর্থিক স্বচ্ছতা দান করে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এই বনভোজন আয়োজন তারই প্রতিফলন।

সমাপ্তির আগে সাংস্কৃতিক পর্বে কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট নাট্যজন ৮ম ব্যাচের শাহীন শাহনেওয়াজ। সংগীত পরিবেশন করেন বনফুল, লুনিয়া, সূচী, জাওয়াদ প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো খবর