বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
সর্বশেষ:
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিচার শুরু ডিসেম্বরে লবণ গুজবে সারা দেশে পুলিশকে মাঠে নামার নির্দেশ পাকিস্তানে ৩০০ রুপি ছাড়ালো টমেটোর দাম পেঁয়াজের দাম কমে গেছে, কাল-পরশু আরো কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী লবণের গুজব! বাড়তি লবণ নিয়ে বিপাকে কোম্পানি ও চাষিরা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নতুন কর্মসূচি পদ্মা সেতুতে বসল ১৬তম স্প্যান, দৃশ্যমান হলো ২.৪ কিলোমিটার কুমিল্লায় অধ্যক্ষ সিরাজের চোখের সামনেই ফাঁসির মঞ্চের আয়োজন ৫ বছর নিষিদ্ধ ক্রিকেটার শাহাদাত অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় বাংলাদেশে
৬০৬

সংসদ ভবনে সাদেক হোসেন খোকার জানাজা সম্পন্ন

তরুণ কণ্ঠ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৯  

 


জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র, বিএনপি নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জানাজা সম্পন্ন  হয়েছে।

সাদেক হোসেন খোকার দুই ছেলে ইশরাক হোসেন ও ইশফাক হোসেন ছাড়াও সংসদ ভবনের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেমন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবের হোসেন চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, তোফায়েল আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অলী আহমদ, আবদুল মঈন খান প্রমুখ।

জানাজা শেষে বিরোধী দলের পক্ষে সাদেক হোসেন খোকাকে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এরপর শ্রদ্ধা জানান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টারা শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি প্রথমবার সংসদে পা রেখেছি আমার বাবার মরদেহ নিয়ে। যদিও আমার বাবা চারবার সংসদ সদস্য হয়ে এসেছিলেন।’

ইশরাক আরো বলেন, ‘আমার বাবাকে আপনারা শ্রদ্ধা জানাতে এখানে এসেছেন, তাই সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এখানে উপস্থিতি প্রমাণ করে, আমার বাবার সঙ্গে সবার সুসম্পর্ক ছিল। আপনাদের ধন্যবাদ।’

ইশরাক হোসেন আরো বলেন, ‘আমার বাবার বুকে চাপা কষ্ট রয়েছে, তিনি নিজ দেশে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে পারেননি। তিনি ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে এখানে এসেছেন। তিনি ২০১৭ সালে পাসপোর্ট নবায়ন আবেদন করেছেন, কিন্তু সেটা পাননি।’

ইশরাক বলেন, ‘আমার বাবা ও আমি যেদিন নিউইয়র্ক গেলাম, সেদিন তিনি শেষ কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জানাজা যেন দেশে হয়। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই, আমার বাবার মরদেহ দেশে আনতে সহযোগিতা করার জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবা আমাকে জানিয়েছিলেন, তিনি বাক্সবন্দি হয়ে দেশে যাবেন। ঠিকই তিনি বাক্সবন্দি হয়ে এলেন। এটা আমি কখনো ভুলতে পারব না।’

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সাদেক হোসেন খোকা একজন সর্বজনস্বীকৃত রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি আধুনিক ঢাকা গড়তে কাজ করছেন। আপনারা সবাই তাঁর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত দান করেন।’

সংসদ ভবনে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত মরহুমের মরদেহ রাখা হবে। এর পর বাদ জোহর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আর বিকেল ৩টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে গোপীবাগে মরহুমের নিজস্ব বাসভবনে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ আসর মরহুমের বাসভবন থেকে মরদেহ ধূপখোলা মাঠে নেওয়া হবে। সেখানে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী জুরাইন কবরস্থানের মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে সাদেক হোসেন খোকাকে।

সাদেক হোসেন খোকা দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। পরে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। গত ২৮ অক্টোবর শারীরিক অবস্থার অবনতির পরই তাঁকে নিউইয়র্কে ম্যানহাটনে স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সাবেক মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকা ২০১৪ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।

এই বিভাগের আরো খবর