সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২২ ১৪২৭   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
৪০

মান্দায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে প্রতারণা: মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২০  

 

নওগাঁর মান্দায় অভিনব কায়দায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করতে গিয়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই দিয়েছেন স্থানীয়রা। গণধোলায়ের পর ওই মাদ্রাসা শিক্ষক এবং  তার ব্যবহৃত মটর সাইকেলটি আটক করেন  তারা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ জুন (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার গণেশপুর ইউপির শ্রীরামপুর গ্রামের সরদারপাড়ায়। 

পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তার মটরসাইকেলটি গণেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦  হানিফ উদ্দিন মন্ডলের হেফাজতে রাখা হয়। ঘটনার ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও মটরসাইকেলটি না নিয়ে ওই প্রতারক শিক্ষক বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন।

গণধোলাই খাওয়া প্রতারক উপজেলার রেবা আখতার আলিম মাদ্রাসার বহিষ্কৃত শিক্ষক বলে জানা গেছে। 

প্রতারণার শিকার গৃহবধু শ্রীরামপুর (সরদারপাড়া) গ্রামের সৌদি প্রবাসী আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী আছমা খাতুন জানান, ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে একটি রং নম্বর থেকে আমার মোবাইলে ফোন আসে। এরপর ওই নম্বর থেকে বলা হয় আপনার মেয়ে খাদিজার স্বামী হাবিবুর রহমান সেতুর আমি খালাতো ভাই। আপনার জামাই, অন্য এক মেয়েকে করেছেন। বর্তমানে সে ৪ মাসের অন্ত:সত্ত্বা। তার বাচ্চা নষ্ট করতে হবে এবং ওই পূর্বের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে। তখন সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী প্রমাণ আছমা খাতুন প্রমাণ চাইলে তিনি টাকার বিনিময়ে পূর্বের বিয়ের নকল সংগ্রহ করে দিতে চান। এমন কথা বলে তার কাছে আপন সাজার চেষ্টা করেন। এমন প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর কাছে ওই প্রতারক মাদ্রাসা শিক্ষক ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক রিকোভারির অজুহাত দেখিয়ে তার বাড়িতে টাকা বাড়িতে টাকা নিতে যান।

এসময় স্থানীয়রা তার অভিনব প্রতারণার কৌশল বুঝতে পেরে তাকে আটককের গণধোলাই দিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে সোপর্দ করে তার শাস্তির দাবী জানান। উপস্থিত জনগণের টানটান উত্তেজনা দেখে তার মোটরসাইকেলটি হেফাজতে রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নওগাঁ গোস্তহাটির মোড়ের সুজন নামের এক বন্ধুর কাছে আমি টাকা চাইলে তিনি আমাকে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে টাকা নিতে এসে এ ঘটনার স্বীকার হই। 

এব্যাপারে গণেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোটরসাইকেলটি হেফাজতে রাখার কথা স্বাীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমাধানের জন্য তাকে ডাকা হলে তিনি না এসে বিভিন্নভাবে তালবাহানা করছেন। তিনি না আসার কারনে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় নি।

এই বিভাগের আরো খবর