বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯   আষাঢ় ৫ ১৪২৬   ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
সর্বশেষ:
তোপের মুখে বন্ধ হলো সৌদির ‘হালাল নাইটক্লাব’ দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি হবে লাকসাম রামেকে ভুল চিকিৎসায় নার্সের মৃত্যু জামিন নাকচ, কারাগারে মোয়াজ্জেম দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল সংসদে আবারও রুমিনের উত্তাপ
৩২০

বাঁশখালীতে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের ১ জন ডাক্তার!

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০১৯  

চট্টগ্রামের সর্ব দক্ষিণের সাগর উপকূলবর্তী উপজেলা বাঁশখালী। এই উপজেলার ৭ লক্ষাধিক জনসাধারণের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরো উপজেলার গড় প্রতি ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের বিপরীতে রয়েছে একজন ডাক্তার। কেননা হাসপাতালে ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও তৎমধ্যে ৫ জন চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। ২ জন চিকিৎসক ডেপুটেশনে অন্য জায়গা চাকুরী করে। প্রশিক্ষণে রয়েছে ৩ জন, ২ সার্জন থাকলেও তারা সপ্তাহে ২ দিন আসে চিকিৎসা দিয়ে চলে যায়। বাকী ৫ জন দিয়ে চলে বাঁশখালী হাসপাতালের জরুরী বিভাগ। ৫০ শয্যা হাসপাতালের মধ্যে ৮০-১০০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও সেই পরিমাণ জনবল ও খাদ্য সংকটে পড়ে যায় রোগীরা। 

তাছাড়া পর্যাপ্ত ঔষুধ না থাকায় রোগীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এদিকে বিগত কয়েকদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে হাসপাতালে ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ রোগীরা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলার একমাত্র সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ডাক্তার স্বল্পতার পাশাপাশি হাসপাতালে রয়েছে পরিছন্নতা কর্মী স্বল্পতা তারা বলেন, এখানে পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকার কথা ৯ জন। আমাদের আছে মাত্র ৩ জন। তার মধ্যে একজন বয়স্ক ও অবসরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পৌরসভা থেকে তিনজন পরিচ্ছন্ন কর্মী দেওয়া হয়েছে। তারা পর্যাক্রমে একজন করে দায়িত্ব পালন করে। যার ফলে প্রায় সময় চার পাশে ময়লা আবর্জনা দেখা যায়। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে থাকা দীর্ঘদিনের পুরানো এ্যাম্বুলেন্সটিও পরিবেশের ক্ষতি করছে। এক সময় চাকার জন্য পড়ে থাকা এ্যাম্বুলেন্সটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স আসার পর একেবারেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। নলকূপে পর্যাপ্ত পানি না উঠায় রোগীদের পানীয় জলের সমস্যায় পড়তে হয়। 

তাছাড়া রুমের ভিতরে অবস্থিত বাথরুম গুলো অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অধিকাংশ লাইট ফ্যান অকোজো থাকা এবং বিদ্যু না থাকলে জেনারেটর চালু না করায় অনেক সময় ভুতুড়ে পরিবেশ মনে হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চার পাশে নিরাপত্তা দেওয়াল না থাকার কারণে অনায়াসে যাতায়াত করে সাধারণ জনগণ। বিগত দিনে বেশ কয়েকবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনা ঘটায় অনেক ডাক্তার নিরাপত্তার অভাবে এখানে রাত যাপন করে না। তাছাড়া প্রায় সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চার পাশের লোকজন অভ্যন্তরে চলাচল করার ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে ডাক্তারসহ কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ কামরুল আযাদ বলেন, হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারদের অধিকাংশ ডাক্তার ডেপুটিশনে এবং প্রশিক্ষণে থাকায় সাময়িক ভাবে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে অবহিত করা হয়েছে এবং কিছুদিনের মধেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্থ প্রদান করেছেন। এদিকে হাসপাতালের এই পরিস্থিতি থেকে অচিরেই পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। 
 

এই বিভাগের আরো খবর