বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রী ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করবেন মঙ্গলবার দাবি না মানলে বিদ্যালয়ে তালা লাগাবে প্রাথমিকের শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী যাচ্ছেন রোববার লাকসামে কিশোর গ্যাং এর ৬ সদস্য গ্রেফতার খাল উদ্ধারের পর চালু হবে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট : তাজুল ইসলাম ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ এখন ঢাকায় শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় ৫০০ মডেল মসজিদ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নতুন ডিএমপি কমিশনারের শ্রদ্ধা
১১৯

পাটের চাহিদা আছে, রপ্তানি নেই

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কিন্তু তারপরও রপ্তানি বাড়ছে না। বরং দেশের পাট রপ্তানি বহুমুখী সংকটে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে পণ্যের দাম বেশি হওয়া। তাছাড়া পাটের ব্যবসায় পুঁজির সংকট, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব- এসব কারণে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দিন দিন কমছে। ইপিবি এবং পাট খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে ইতিমধ্যে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। পাটের তৈরি পলিথিন তৈরি করা হয়েছে। এ পলিথিন ১৫ দিনের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। যে কারণে এটি পরিবেশসম্মত কিন্তু এখনো এটি দেশের ভেতরে ব্যাপকভাবে প্রচলন করা সম্ভব হয়নি। কারণ এর দাম বেশি পড়ছে। তাছাড়া পাটপাতা থেকে চা তৈরি করে সেগুলো রপ্তানি করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের বাজারে এটি এখনো ব্যাপকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো যাচ্ছে না।

এদিকে ইপিবি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত ২০১০-১১ অর্থবছরে এ দেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয় ১১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৯৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে।

২০১২-১৩ অর্থবছরে সেটি আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩ কোটি ৬ লাখ ডলারে। কিন্তু ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৮২ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয় আবার কমে ৮৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানি সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই রপ্তানি সামান্য বেড়ে হয় ৯৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয় বেড়ে হয় ১০২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং অর্জিত হয়েছে ৮১ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

আর চলতি অর্থবছরে এ খাতে ৮২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের চেয়ে সামান্য বেশি। এর আগে এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রপ্তানি আয়ের নজির রয়েছে।

অন্যদিকে দেশের পাট ও পাটজাত পণ্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুট গুডস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, বিদেশি বাজারে এখন পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। যে কারণে রপ্তানিও বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া বিদেশের বাজারে প্রতিযোগিতায় পাটপণ্য পিছিয়ে পড়ছে। কেননা দেশে পাটজাত পণ্যের দাম বেশি পড়ছে। এ ব্যবসায় সবচেয়ে বড় সংকট পুঁজির। কেননা ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ দিতে চায় না। ফলে উদ্যোক্তারা ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে পারেন না।