বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
সর্বশেষ:
প্রধানমন্ত্রী ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করবেন মঙ্গলবার দাবি না মানলে বিদ্যালয়ে তালা লাগাবে প্রাথমিকের শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী যাচ্ছেন রোববার লাকসামে কিশোর গ্যাং এর ৬ সদস্য গ্রেফতার খাল উদ্ধারের পর চালু হবে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট : তাজুল ইসলাম ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ এখন ঢাকায় শেখ হাসিনার একান্ত প্রচেষ্টায় ৫০০ মডেল মসজিদ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নতুন ডিএমপি কমিশনারের শ্রদ্ধা
২৬০

পপুলারের গ্রাহকের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ ইনচার্জ মনিরের বিরুদ্ধে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

পপুলার লাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানির একক বীমা প্রকল্পের শরীয়তপুর সার্ভিসেলের ইনচার্জ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে একাদিক পলিসি গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

এমনই একজন ভোক্তভোগি গ্রাহক শান্তা বেগম, স্বামী- নান্টু সরদার সাং ধামারন, পোঃ উপসি - নড়িয়া- শরীয়তপুর। বাংলাদেশের সুপরিচিত পপলার লাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানিতে ১৮/১২ /২০১০ সালে একটি বিমা পলিসি করে শান্তা বেগম যাহার পলিসি নং ১৮৩৯০০৯৩৪-৩ যার বিমা অংক এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার প্রথম বোনাস হিসাবে সাইত্রিশ হাজার পাচশত টাকা নির্বাহি হাতে পায়। 

এদিকে মাঠকর্মী রিতা আক্তার ও একক বিমা প্রকল্পের ইনচার্জ মনির হোসন লোভ এবং ভয় দেখিয়ে বছরে চল্লিশ হাজার টাকার এফ ডি আার  হিসাব খোলার জন্য অনুরোধ করে। শান্তা বেগম বাধ্য হয়ে হিসাব খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ও নগত দুই হাজার পাচশত টাকা ২৫/৪/২০১৮ সালে মনিরের কাছে দেওয়া হয়।

কিন্তু শান্তা বেগম এপ ডি আর এর চল্লিশ হাজার টাকার রিসিট ও দলিল আজও পায়নাই। মাঠ কর্মী রিতার কাছে আমার প্রয়োজনীয় বিমার দলিলপত্র ও এফ ডি আর এর কাগজ পত্র চাইলে রিতা বলে মনির সারের অফিসে আছে এবং রিতা আরো বলে আগের দলিল থাকলেই চলবে। 

শান্তা বেগমের জাল রোকসানা বেগম যাহার পলিসি নং ১৮২৯০০২৮৭৫/৫ এর বিমার একক কিস্তি চব্বিশ হাজার সাতশত পচাত্তর টাকা ২৫/৩/২০১৮ তারিখে ইনচার্জ মনিরের হাতে দেওয়া হয়। গত ২৫/৮/২০১৯ তারিখে গ্রাহক শান্তা বেগম ও রোকসানা বেগম শরীয়তপুর সদর দুবাই প্লাজায় পপুলার অফিসে গিয়ে জানতে পারে রোকসানার  একাউন্টে কিস্তির টাকা জমা হয় নাই। 

পরবর্তীতে অফিসের মোসারফ ও সোহান সারের মাধ্যমে জানতে পারে তাদের দুজনের বিমা পলিসির টাকা মাঠ কর্মী রিতা ও মনির সার আত্নসাৎ করেছে। শরীয়তপুরের গোসাইর হাট উপজেলার দক্ষিন পাসকাঠি গ্রামে বসবাসরত মোঃ মনির হোসেন একজন অত্যান্ত  গরিব অসাহায় ভ্যান গাড়ি চালিয়ে খেটে খাওয়া মানুষ। 

এই গরিব ব্যক্তি তার ভবিষ্যতের লাভের আসায়  পপুলার ইন্সুইরেন্স কোম্পানিতে ৩০/৬/২০০৬ সালে আই ডি পি এস প্রকল্পে একটি বীমা করে  যাহার পলিসি নং -০৯০৬৮৫৯০০০৯২ এই উক্ত পলিসির মেয়াদ শেষ হয় ৩০/৬/২০১৬ সালে। 

যাহার বীমা অংক ছিল বার হাজার টাকা দশ বছরে লাভসহ দারায়  সতের হাজার একশত বার টাকা।২০১৯ সাল গত হতে হচ্ছে আজও অব্দি মনির হোসেন টাকা পায় নাই। 

গ্রাহক মনির হোসেন দীর্ঘদিন ঘোরা ঘুরি করে শরীয়তপুর অফিসে গিয়ে জানতে পারে তার একাউন্ট নং -১৩১৯১২১২৫১০৪১৪৭ মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিঃ এ টাকা জমা না দিয়ে শরীয়তপুর ইসলামি ব্যাংক ৭৩৮৮ একাউন্টে টাকা জমা করে অন্য মনির নামে জালিয়াতি করে উত্তোলন করে নিয়ে যায়। 

পালং উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে বসবাসরত ফিরোজা বেগম গত ৫/৩/২০১১ সালে মনির সারের মাধ্যমে পপুলার লাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানিতে একক বীমা করে যাহার পলিসি নং ১৮২৯০০১৩৩১-০ এর বোনাসের টাকা অফিসে গিয়ে  চাইতে গেলে ইনচার্জ মনির গ্রাহক ফিরোজা বেগমের সাথে খারাপ আচরন এবং অশ্লীল ভাষায় গালি গলিগালাজ করে ছেলের সামনে। 

ফিরোজা বেগমের ছেলে মিজান প্রতিবাদ করায় ইনচার্জ মনির মিজান কে মেরে রক্তাক্ত জখম করে এবং এই মনির স্হানীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে ফেলে। 

মনির আরো বলে তোর ছেলেকে নিয়ে এখান থেকে চলে যা আর যদি না যাস তাহলে ইয়াবা দিয়ে তোর ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দিবো। ফিরোজা বেগম ভয়ে তার ছেলেকে নিয়ে অফিস থেকে প্রানে বেঁচে আসে। 

ফিরোজা বেগম সাক্ষাৎকালে জানা যায় ফিরোজা বেগম ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বীমার আট কিস্তি মনির সারের কাছে পরিশোধ করে। ফিরোজা বেগম তার বীমা একাউন্ট চেক করে জানতে পারে তার একাউন্টে আট কিস্তির দরুন চার কিস্তি জমা হয়েছে। 

বাকি চার কিস্তির টাকা ইনচার্জ মনির সার আত্নসাৎ করেছে এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। বীমা গ্রাহক ফিরোজা বেগম বীমার চার কিস্তির টাকা জানতে চাইলে ইনচার্জ মনির ফিরোজা বেগম কে প্রাননাশের হুমকি দেয়। 

এই দূর্নীতিবাজ মনিরের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর সদর পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স অফিসের কর্মচারিদের বহু মাসের  বেতনের টাকা তাদের সহি জাল করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।এ ব্যপারে মনিরের বিরুদ্ধে অফিসের কর্মচারি ও বীমা গ্রাহকরা ঢাকা দিলকুশা প্রধান অফিসের পপুলার লাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানির ব্যবস্হাপনা পরিচালক সি ও  এর বরাবর একাদিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্বেও ঢাকা প্রধান অফিসের ব্যবস্হাপনা পরিচালক বি এম ইউসুপ আলী এই দূর্নীতিবাজ মনিরের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেয়নি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে এবং স্থানীয় সুত্রে  জানা গেছে মনির লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি কিনে বাড়ি করেছে এবং সে প্রতি মাসে এন জি ও ব্রাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা কিস্তি প্রদান  করে। 

এই মনির বিভিন্ন সভা সেমীনারে তার বক্তব্যে বলে সে প্রতি মাসে তিন লক্ষ টাকা আয় করে এই অফিসের মাধ্যমে এবং তিনি আরো বলেন সে বাড়ি গাড়ি সবই করেছে একথা বলে সাধারণত মানুষকে লোভ লালসা দিয়ে বীমা করে লাখ লাখ টাকা আত্নসাৎ করে বর্তমানে এই মনির আঙ্গুল ফুলে কলা গাজ হয়েছে। 

শরীয়তপুর সদর পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স অফিস বর্তমানে আড্ডা খানায় পরিনত হয়েছে। অফিসের কেউ  প্রতিবাত করতে গেলে পুলিশ প্রশাসনের এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের  কথা বলে ভয় দেখিয়ে অফিস কর্মচারী ও বীমা গ্রাহকদেরকে জিম্মি করে রাখছে। 

ভুক্তভোগী বীমা গ্রাহকরা সাক্ষাৎকারে বলে এই দূর্নীতিবাজ মনিরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলি অডিটের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে এখন থেকে ব্যবস্থা নিতে না পারলে পপুলার লাইফ ইন্সুইরেন্স কোম্পানির সুনাম অচিরেই নস্ট হয়ে যাবে। 

পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর সহকারী ব্যবস্থা পনা পরিচালক বি এম শওকত আলী এর সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন শরীয়তপুর সদর একক বীমা প্রকল্পের ইনচার্জ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল কর্মচারীদের মধ্যে অন্তরদ্বন্দে কার্যকলাপ সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

বীমা গ্রাহক ভুক্ত ভূগীরা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমরা যদি বীমা গ্রাহকদের কাছে থেকে লিখিত অভিযোগ পাই তাহলে তার সত্যতা যাচাই করে সে যদি দোষী হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর