শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

তরুণ কণ্ঠ|Torunkantho
২২২

দেশে প্রথম লোহার খনির সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০১৯  

দিনাজপুরের হাকিমপুরে খনিজ পদার্থের অনুসন্ধানে অধিকতর জরিপের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর। কূপ খননের মাধ্যমে লৌহ খনিজ পদার্থের অবস্থান নিশ্চিত হয়েছে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ দল। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ দল বলছে, জরিপে আশানুরুপ ফলাফল পাওয়া গেছে। দেশের মধ্যে এটিই প্রথম লৌহ খনিজ পদার্থের খনি।

হাকিমপুর উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বে ইসবপুর গ্রামে চলছে লৌহ খনিজ পদার্থের খনি আবিষ্কারের জরিপ। ২০১৩ সালে এই গ্রামের তিন কিলোমিটার পূর্বে মুশিদপুর এলাকায় কূপ খনন করে লৌহ খনিজ পদার্থের সন্ধান পান ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর। সেখানে ১৫শ থেকে দুই হাজার ফুট গভীরতায় মূল্যবান ম্যাগনেটিক মিনারেল, হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট ও লিমোনাইট পাওয়া যায়। আর ১২’শ ফুট গভীরতায় পাওয়া যায় চুনা পাথর। যা অন্যান্য জায়গার গভীরতার চেয়ে অপেক্ষাকৃত অনেক কম গভীর।

সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ছয় বছর গবেষণা করে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় সম্প্রতি ইসবপুরে দ্বিতীয় জরিপে কূপ খননের কাজ শুরু করে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতরের ৩০ সদস্যের একটি দল। তিন শিফটে এই কাজ পরিচালনা করছে বিশেষজ্ঞ দলটি। এখানেও লৌহ খনির অবস্থান নিশ্চিত হন তারা।
 
স্থানীয় মনসপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বলেন, খনির কার্যক্রম না থামলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হবে। তেমনি পাল্টে যাবে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রার মান। এমনই আশায় বুক বাঁধছেন এলাকার মানুষ।

হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, লৌহ খনি আবিষ্কার হওয়ায় আমরা খুব খুশি। এটি দ্রুত উত্তোলন করলে একদিকে যেমন এলাকার লোকজনদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে তেমনি। জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। তাই এই খনির কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)র উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাসুম বলেন, এই অঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৪’শ কোটি বছর আগে সমুদ্র ছিল। আর এ কারণে এখানে আগ্নেয় শিলার অবস্থান থাকায় লৌহ খনিজ পদার্থের খনি রয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি এখানে উন্নত মানের লৌহ খনি রয়েছে।

বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)র ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপ-পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, গত ২১ এপ্রিল থেকে ইসবপুর গ্রামে খনিজ সম্পদের মজুদ, বিস্তৃতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কতা যাচাইয়ের জন্য জিএসবি ড্রিলিং কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১৭৬০ ফিট ড্রিলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ম্যাগনেটিক মিনারেল, হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট ও লিমোনাইট উপাদান পাওয়া গেছে. এতে আরও ভাল কিছু পাওয়ার আশা করছি।
 

এই বিভাগের আরো খবর